এমপিওভুক্তির দাবিতে আজও সড়কে শিক্ষকরা

0
24
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান নন-এমপিও শিক্ষকরা

এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান নেন তারা। সারাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ১০ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও অজানা কারণে এখনও এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো অগ্রগতি নেই। তাই দাবি পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীই আমাদের একমাত্র অবলম্বন।’

শিক্ষকরা জানান, গত বছরের ৭ জুন সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে এমপিওভুক্তির কোনো বরাদ্দ না থাকায় ১০ জুন থেকে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন তারা। টানা ৩২ দিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা অবস্থান ধর্মঘট ও আমরণ অনশন করেন। গত বছর ১১ জুলাই তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইনে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন গ্রহণ করে। তবে এই এক বছরেও তারা অজ্ঞাত কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।

গত বুধভার সকালে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে পদযাত্রা শুরু করে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশন। কিন্তু পুলিশের বাধার মুখে তারা প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।

পরে শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আন্দোলনরত নন এমপিও শিক্ষকরা। তবে ওই আলোচনা সফল হয়নি।

শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, শিক্ষাসচিবের আহ্বানে আমরা ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অফিসার্স ক্লাবে তার সঙ্গে দেখা করতে যাই। কিন্তু সচিব মহোদয় এমপিওভুক্তির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তাই আমরা ফিরে এসে ফের অবস্থান শুরু করেছি।

২০০৬ সাল থেকে একই দাবিতে ৩০তম বারের মতো আন্দোলন করছেন নন এমপিও শিক্ষকরা। তাদের দাবির মুখে ২০১০ সালে স্বীকৃতি প্রাপ্ত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হলেও বাদ রয়ে যায় আরও পাঁচ হাজার ২৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ হাজারের মতো শিক্ষক ও কর্মচারী।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে আপনার লিখুন