সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ, লাভবান উভয় চাষিই

0
29

টাঙ্গাইলে এখন সর্বত্রই সরিষার আবাদ। আর এই সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করে লাভবান হচ্ছে কৃষক-মৌচাষি উভয়ই। কারণ সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করলে জমির ফলনও বাড়ে।

জেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে এখন সরিষার হলুদ রঙের সমারোহ। সরিষার এসব জমির পাশেই মৌ চাষের বাক্স বসিয়েছেন মৌচাষিরা। এতে মৌমাছির মাধ্যমে সরিষা ফুলের পরাগায়নে সহায়তা হচ্ছে। ফলে একদিকে সরিষার উৎপাদন বাড়ছে, অপরদিকে মধু আহরণ করা যাচ্ছে। ফলে সমন্বিত এই চাষে লাভবান চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার এবছর ৪১ হাজার ৫০৭ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এসব ক্ষেতের পাশে প্রায় তিন হাজার মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করা হয়েছে। এই বাক্স থেকে এবার একশ টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উচ্চ ফলনশীল ও স্থানীয় উভয় জাতের সরিষা কৃষকরা চাষ করে। দুই জাতের সরিষা নভেম্বরের শুরু থেকে নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত আবাদ করতে হয়। ফসল ঘরে উঠতে সময় লাগে জাত ভেদে ৭০ থেকে ৯০ দিন।

জানা গেছে, নাগরপুরের গয়হাটা, ধুবড়িয়া, ভাদ্রা, মোকনা, দপ্তিয়র, মামুদনগর, বেকড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষি দিয়ে সরিষাক্ষেতের পাশে মৌ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশির ভাগ মৌচাষি এসেছেন সাতক্ষীরা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এসব মৌচাষিদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে, স্থানীয় কৃষকরা জানায় আমাদের যদি কৃষি অফিস মৌ চাষের প্রশিক্ষণ দিতো তাহলে আমরা সরিষার সঙ্গে মৌ চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারতাম।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল রাজ্জাক বলেন, মৌমাছি সরিষার ফুলে উড়ে উড়ে বসে মধু সংগ্রহ করে। এতে সরিষা ফুলে সহজে পরাগায়ন ঘটে। তাই দেখা গেছে সরিষাক্ষেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করলে সরিষার ফলন অন্তত ২০ শতাংশ বাড়ে। সঙ্গে মৌচাষিরা মধু আহরণ করেও লাভবান হতে পারেন।

মন্তব্য করুন

দয়া করে আপনার মন্তব্য লিখুন!
দয়া করে আপনার লিখুন