আজ
|| ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি বুঝবেন ৪ লক্ষণে
প্রকাশের তারিখঃ ২৯ নভেম্বর, ২০২৪
আপনার শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্য ভিটামিন ডি অত্যন্ত প্রয়োজন। চিকিৎসকরা তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ ভিটামিন ডি-র অভাবে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোন লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা জানা উচিত।
প্রোটিন, ফাইবার, খনিজের মতো ভিটামিন ডিও শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। হাড় মজবুত করা থেকে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি— ভিটামিন ডি-র জুড়ি মেলা ভার। শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও ভিটামিন ডি অত্যন্ত উপকারী। চিকিৎসকরা তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়ার কথা বলেন। কারণ ভিটামিন ডি-র অভাবে নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কীভাবে বুঝবেন শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হয়েছে।
১. শরীরে ভিটামিন ডি-র মাত্রা কম হলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। তা থেকে ঘন ঘন মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে, ভাল ভাবে বিশ্রাম নিয়েও যদি আলস্য কাটতে না চায় এবং ক্লান্ত বোধ করেন, তবে এটি ভিটামিন ডি-র অভাবের কারণে হতেই পারে।
২. শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হলে গিরায় গিরায় যন্ত্রণা বাড়ে। সারাক্ষণ গায়ে হাত-পা ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কোমর ব্যথায় ভুগলে তা শরীরে ভিটামিন ডি-র অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই ভিটামিন। শরীরকে বিভিন্ন ভাইরাস এবং ব্যাক্টেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ঘন ঘন ভাইরাল জ্বর, সর্দি-কাশিতে ভুগছেন? এই উপসর্গগুলি শরীরে ভিটামিন ডি-র ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন বলে খাওয়া কমিয়ে দেওয়া অন্য বিষয়। কিন্তু খিদে পেলেও খেতে ইচ্ছে না করা মোটেই ঠিক বিষয় নয়। খিদে কমে যাওয়াও হতে পারে ভিটামিন ডি ঘাটতির লক্ষণ। তাই খিদে কমে গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুন।
৪. কমবেশি চুল ঝরার সমস্যা থাকে অনেকেরই। তবে চুল ঝরার পরিমাণ যদি অত্যধিক হারে বেড়ে যায়, তা হলে নজর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ শরীরে ভিটামিন ডি অত্যধিক পরিমাণে কমে গেলেও এমন সমস্যা হতে পারে।
ভিটামিন ডি টিপস
যেসব খাবার হতে পারে শিশু-কিশোরদের হাড় ক্ষয়ের কারণ
হাড় ক্ষয় প্রধানত বেশি বয়সের রোগ হলেও শিশু-কিশোরদেরও কিছু কিছু সময় হাড় ক্ষয় রোগে ভুগতে দেখা যায়। যা শিশুর বৃদ্ধি, চলা ফেরার সামর্থ্যকে প্রকটভাবে ব্যাহত করতে পারে। অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েদের পড়ে যাওয়া ও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা কম থাকায় এবং চিকিৎসাটি ব্যয়-বহুল হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অনেক সময় পাওয়া যায় না।
এমন অনভিপ্রেত পরিস্থিতির পিছনে মূলত রয়েছে বাচ্চাদের ভুলে ভরা খাদ্যাভ্যাস। জানলে অবাক হয়ে যাবেন, আপনার সন্তানের ডায়েটে এমন কিছু ক্ষতিকর খাবার রয়েছে যা তার শরীরের জন্য খুবই খারাপ। এমনকি হাড়ের ক্ষয়ের কারণও হতে পারে। চলুন জেনে নেই এমন পাঁচটি খাবার সম্পর্কে যা শিশুদের হাড় ক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
মিষ্টি থেকেই সমস্যা
বাচ্চারা মিষ্টির পোকা। তাই তারা মিষ্টি নিয়মিত খায়। আর এই খাবার খায় বলেই তাদের শরীরের হাল বিগড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। কারণ, মিষ্টি শরীরে প্রদাহ বাড়ায়। যার ফলে হাড়ের ক্ষয় হতে পারে। এমনকি পিছু নিতে পারে অন্যান্য নানাবিধ সমস্যা। তাই অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের মিষ্টি খেতে দেবেন না। এমনকি আইসক্রিম, ক্যান্ডির থেকেও তাকে দূরে রাখুন। তাতেই মিষ্টির থেকে দূরে থাকতে পারবে সন্তান।
চকোলেট
আপনার সন্তান কি নিয়মিত চকোলেট খায়? তা হলে যে তার হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে! কারণ, আমাদের পরিচিত অধিকাংশ চকোলেটেই থাকে ক্যাফিন। আর অত্যধিক ক্যাফিন হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বের করে দিতে পারে। যার ফলে পিছু নিতে পারে হাড়ের সমস্যা। শুধু তাই নয়, চকোলেটে ভরপুর পরিমাণে চিনিও মেশানো থাকে। যার জন্য এই খাবার খেলে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই ছোট্ট সোনাকে নিয়মিত চকোলেট খেতে দেবেন না।
চিপস থেকে সাবধান
অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি খাবার হলো চিপস। এই খাবার প্রচণ্ড গরম তেলে খুব করে ভাজা হয়। সেইসঙ্গে এতে মেশানো হয় নুন থেকে শুরু করে একাধিক মশলা। এমনকি এতে প্রিজারভেটিভসও মেশানো হয়। আর এই ধরনের উপাদানই শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর থেকে হাড়ের ক্ষয় হতে পারে। সেই সঙ্গে শরীরের পিছু নিতে পারে একাধিক জটিল রোগ। তাই ছোট্ট সোনাকে চিপসের থেকে দূরে রাখুন।
খাসির মাংস
বাচ্চাদের মাঝে মধ্যে পাঁঠার মাংস খাওয়াতেই পারেন। তাতে খুব একটা ক্ষতি নেই। তবে এই মাংস যদি সে নিয়মিত খায়, তাহলে দেহে প্রদাহ বাড়বে। আর ইনফ্লামেশন বাড়লেই হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়ে যেতে পারে। এমনকি পিছু নিতে পারে অন্যান্য রোগ। শুধু তাই নয়, এতে মজুত ফ্যাটের কারসাজিতে ওজন বাড়ে। সেইসঙ্গে কোলেস্টেরল লেভেলও বৃদ্ধি পায়। তাই চেষ্টা করুন ছোট্ট সোনাকে রেড মিট কম খাওয়ানোর।
কী খাওয়াবেন?
বাচ্চার হাড়ের জোর বাড়াতে চাইলে তার ডায়েটে কিছু উপকারী খাবার রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে দুধ, ছানা, দই, মাছ, ডিম ও সোয়াবিনের মতো খাবার খাওয়ান। এর পাশাপাশি তাকে প্রতিদিন মাঠে খেলতে পাঠান। খেলতে না চাইলে সাইকেল চালাতে দিন, সাঁতার কাটতে বলুন। তাতেই সন্তানের হাড়ের জোর বাড়বে। এড়িয়ে চলতে পারবে একাধিক জটিল সমস্যা।
Copyright © 2026 আজকের মেইল. All rights reserved.