সোলায়মান চৌধুরী ১৯৭৭ সালে অনুষ্ঠিত সুপিরিয়র পোষ্ট পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৭৯ সালে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিষ্টেট পদে ঢাকা জেলায় সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব,পাটকল সংস্থার চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম ওয়াসা চেয়ারম্যান,জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান, রাষ্ট্রপতির সচিবসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০১ সালে ফেনীর জেলা প্রশাসক, ২০০৬ সালে পর তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সর্বশেষ রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে তিনি অবসরে যান। চাকরি শেষে তিনি বিএনপির চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবেও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।
চট্টগ্রামে আমার অর্গানাইজিং এ অনুষ্ঠিত মেট্রোপেরেটন সাংবাদিক ইউনিয়ন হলে “জন আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ” এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি সংলাপ অনুষ্ঠানে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী ২০১৯ সালের শেষের দিকে আমাদের রাজনৈতিক উদ্যোগের সাথে সরাসরি যোগদান করেন। ২ মে ২০২০, এবি পার্টির আত্মপ্রকাশ হয়, এএফএম সোলায়মান চৌধুরী এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোনীত হোন।
এএফএম সোলায়মান চৌধুরী এবি পার্টিকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করার জন্য একক এবং অনন্যা ভূমিকা পালন করেন। তিনি পার্টির নিবন্ধন ইস্যুতে কঠোর পরিশ্রম করেন। ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং আওয়ামীলীগ এবি পার্টিকে নিবন্ধন দিবে না এটি পার্টির নীতি নির্ধারকদের আশঙ্কা ছিল। এবি পার্টিকে ২০২৩ সালের ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য আওয়ামীলীগ সরাসরি এবং এজেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন অফার দেওয়া হয়। এবি পার্টি এজেন্সি এবং আওয়ামীলীগের সেই অফার প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সকল ক্রাইটেরিয়ায় ফুলফিল করলেও এবি পার্টিকে নিবন্ধন থেকে বঞ্চিত করা হয়। এবি পার্টি নীতিনির্ধারকেরা প্রথম থেকেই প্রস্তুতি এমনভাবে নিয়েছে যদি নির্বাচন কমিশন এবি পার্টিকে নিবন্ধন না দেয় তাহলে যেন আদালতের মাধ্যমে অর্থাৎ আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন পাওয়া যায়। তাই সকল ডকুমেন্ট এমনভাবে সাবমিট করতে হবে যেন আইনি প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন পেতে সমস্যা না হয়। আইনে যেন সমস্ত কাগজপত্র কাভার করে। এই কাজে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী যে ভূমিকা রেখেছেন তা যতই বলা হবে কম বলা হবে। তৃণমূলে সংগঠন প্রসারিত হলো, পার্টি নিবন্ধন পেল, প্রতীক পেল। এরপর এএফএম সোলায়মান চৌধুরী উঠেপড়ে লেগেছিলেন পার্টির কাউন্সিল নিয়ে। আমরা যে একটি সফল কাউন্সিল করতে পারলাম, পার্টির অভ্যন্তরীণ নির্বাচন সম্পন্ন করলাম প্রথম থেকেই এর মাস্টারমাইন্ড এএফএম সোলায়মান চৌধুরী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে বর্তমান বাস্তবতায় যদিও এবি পার্টির কাউন্সিলরেরা পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে মজিবুর রহমান মঞ্জুকে বেছে নিয়েছেন, তারপরও এবি পার্টির জন্য এএফএম সোলায়মান চৌধুরীর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উনি পার্টির প্রধান অভিভাবক এবং নেপথ্যের নায়ক।