আজ
|| ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৪শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
চেক ডিসঅনার মামলা কখন ও কিভাবে দায়ের করতে হবে?
প্রকাশের তারিখঃ ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
অনেকেই চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আজকে আমার আলোচনার বিষয় হচ্ছে
চেক ডিসঅনার মামলা কখন ও কিভাবে দায়ের করতে হবে?
চেক ডিসঅনার মামলার প্রাথমিক তিনটি ধাপ হচ্ছেঃ-
১.চেক যেদিন ডিসঅনার হবে ঠিক সেদিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অবশ্যই চেক দাতাকে একটি নোটিশ দিতে হবে এই মর্মে যে, চেকের উল্লেখিত অর্থ চেক গ্রহণকারীকে প্রদান করার জন্য আহবান করতে হবে।
২.নোটিশ দেওয়ার পরে চেক দাতা সময়মতো চেকর অর্থ দেবে কিংবা দিবে না তা আবার নোটিশে জানাবে।
৩. চেক দাতা অর্থ প্রদান না করেন এবং অজুহাত চেক গ্রহণকারীর কাছে উপযুক্ত মনে না হয়,তাহলে চেক গ্রহণকারী পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্থানান্তরযোগ্য নথি আইন,১৮৮১ এর ধারা ১৩৮ এর অধীনে একটি মামলা করবেন৷
চেক ডিজঅনার মামলার করার জন্য যে সকল কাগজ প্রত্র আদালতে দাখিল করতে হবেঃ
চেকের মামলা করতে কি কি কাগজপত্র লাগবেঃ-
(i) মামলার আরজী।
(ii) প্রদত্ত লিগ্যাল নোটিশ এর ফটোকপি ।
(iii) লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোকৃত পোস্টাল রশিদ এবং এ.ডি এর ফটোকপি।
(iv) চেক দাতা কর্তৃক দেওয়া মূল চেকের ফটোকপি।
(v) ডিসঅনার স্লিপ এর ফটোকপি।
(vi) অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র।
আসুন এখন আমরা জানি চেক ডিসঅনার মামলার শাস্তি বা জরিমানাঃ-
১. এক বছর পর্যন্ত কারাদন্ড।
২. অথবা জরিমানা যা চেকে উল্লেখিত টাকার ৩ গুন পর্যন্ত হইতে পারে।
৩. অথবা উভয়দন্ড।
আপীল দায়ের পদ্ধতি -
(১) Negotiable Instruments Act এর ১৩৮ ধারায় চেক ডিস অনার মামলায় প্রদত্ত দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা দায়ের করা যায়।
যদি এরূপ দন্ড যুগ্ম জেলা জজ কোর্ট দিয়ে থাকে তাহলে ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজ কোর্টে আপীল দায়ের করতে হবে। তাছাড়া এরূপ দন্ড যদি জেলা জজ কোর্টের হয় তবে ৬০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপীল দায়ের করতে পারবেন।
আপীল দায়েরের পদ্বতি এবং পূর্বশর্তঃ-
চেক ডিসঅনারের মামলায় চেকে উল্লেখিত অর্থের সর্বনিম্ন ৫০% জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে। চেক ডিসঅনারকৃত চেকের টাকার ৫০% টাকা যে আদালত শাস্তি দেয় সেই আদালতে জমা দিয়ে আপীল দায়ের করতে হবে। তার মানে ৫০% টাকাটা বিচারিক আদালতে জমা দিতে হবে, আপীল আদালতে নয়।
চেক ডিসঅনার সংক্রান্ত মামলা থেকে যদি বাঁচতে চান তাহলে নিচের বিষয় গুলো পালন করবেনঃ-
১.আপনার যদি খুব কাছের বন্ধু বা অফিসের কলিগ আপনার কাছে চেক চান তবুও অন্যের কাজের জন্য চেক দিবেন না।
২.চেক বইটি সাবধানে রাখতে হবে যদি কখনো চেক বই বা পাতা হারিয়ে যায় সাথে সাথে ব্যাংকে জানাতে হবে এবং থানায় জিডি করতে হবে।
৩.যথাসম্ভব অ্যাকাউন্টে পে-চেক ব্যবহার করা আবশ্যক বলে মনে করি করন এতে রিক্স কম।
৩.চেকে দেওয়া তারিখটি খুব সচেতন ভাবে দিতে হবে এবং সেই তারিখটি মাথায় রেখে হিসাব পরীক্ষা করতে হবে।
যেকোন লেনদেনের জন্য চালান রাখতে হবে।
৪.যদি বিপদে পরেই যান তাহলে যত দ্রুত সম্ভব একজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সাহায্য নিয়ে বিষয়টি পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
Copyright © 2026 আজকের মেইল. All rights reserved.