আজ
|| ১৯শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ || ২৯শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
সরকারে আসার মতো দল একটিই-বিএনপি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
প্রকাশের তারিখঃ ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়া়দ বলেছেন, আগে কি সংস্কার, বিচার তারপরে নির্বাচন! না নির্বাচন আগে হবে, নূন্যতম সংস্কার দিয়ে! আসলে সবটা মিলায়ে সংস্কার। নির্বাচনটা সংস্কারের একটা মোটা দাবি। আপনারা দেখেছেন যে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতায় সরকার আসার পরে, দায়িত্ব নেবার পরে, প্রথম যে ছয়টা কমিশন করেছেন,এই ছয়টা কমিশনের একটা কমিশন কিন্তু নির্বাচন রিলেটেড কমিশন। এবং তারা ইতিমধ্যে আপনার এই রিপোর্টও দিয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বর মাসে তারা তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে,সুপারিশমালা দিয়ে দিয়েছে। এজন্য দেখেন ,যে সংস্কারের রূপরেখার মধ্যে কিন্তু অলরেডি নির্বাচন আছে এবং সেটা চলমান। তো সেই জায়গাতে আমাদের এখানে আমরা কোন নূন্যতম বিরোধ দেখতে পাচ্ছি না। যেটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা হচ্ছে, আমরা যেটাই করতে চাই, সেটা যেন ঐক্যমতের ভিত্তিতে হয়।
অন্তর্বতীকালীন সরকারের সাথে যখন আমাদের একাধিকবার দেখা হয়েছে প্রফেসর ইউনুসকে এবি পার্টির পক্ষ থেকে আমরা পরিষ্কার করে বলেছি যে, আপনি দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ঐক্যমতের ভিত্তিতে যে কাজগুলো করা সম্ভব সেগুলো করবেন। আমরাও আমাদের দলের পক্ষ থেকে বলেছি, দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্বাচনটা হয়ে যাওয়া দরকার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও যে রোডম্যাপটা দিয়েছে, আপনার এই বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের মাঝামাঝির মধ্যে, এটা মোটামুটি আমাদের মোটা দাগে যে প্রস্তাবনা ছিল দুই বছর, সেটার মধ্যে, সেই ফ্রেমের মধ্যে আছে।
তিনি বলেন, ঐক্যমত, আলাপ, তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়ে এই সরকার যে স্পেসটা ক্রিয়েট করেছে, এটার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র এবং আমাদের যে আকাঙ্ক্ষাগুলো আছে, সেটা একটা গতিপথের মধ্যে যাবে। একটা গতির মধ্যে যাবে সেখানে কোন সংকট আমি এখনো দেখতে পাচ্ছি না। তাই সংস্কার বলেন, বিচার বলেন, নির্বাচন বলেন, পুরোটা আলোচনার ভিত্তিতে হবে, এই ব্যাপারে আমাদের এখন পর্যন্ত সন্দেহ করবার মতো কোন জায়গা নাই।
মোটা দাগে আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বাংলাদেশে এই মুহূর্তে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার মত দল আসলে একটা আছে- বিএনপি ছাড়া ইনফ্যাক্ট অন্য কোন রাজনৈতিক দল নাই। যদিও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয় নাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে মাঠে থাকবে অথবা খুব ভালো ভালো প্রতিদ্বন্দীতা করতে পারবে, এমনটা আমরা বিশ্বাস করি না।
এবি পার্টি বিশ্বাস করে যে,বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও খুব বড় ল্যান্ডস্লাইড নিয়ে যদি আসে, এটা দেশের জন্য বিএনপির নিজস্ব স্বার্থে এবং দলের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে এটা ক্ষতিকর হবে। তারা বাকশাল মডেলে প্রচন্ড জুলুমতন্ত্র কায়েম করবার সম্ভাবনা আছে। এই রাষ্ট্রযন্ত্র গত ৫৩ বছরে একটা সমস্যারও সমাধান করতে পারে নাই। অথচ এই মশার কামড়ে মারা যাবার কোন যৌক্তিক কারণ নাই।
তিনি আরো বলেন,এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে,এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবার সরকার,এই প্রত্যাশাগুলো সে বাস্তবায়ন করবে কি দিয়ে। সরকারকে একটা জিনিস নাগরিকের কাছে পৌঁছাইতে দুইটা জিনিস লাগে। একটা হচ্ছে, সরকারের ব্যাংক একাউন্টে টাকা থাকা লাগে। রাষ্ট্রের ব্যাংক একাউন্ট আওয়ামী লীগ ফাঁকা করে দিয়ে গেছে। এই রাষ্ট্রের ট্রেজারিতে আমাদের কোন টাকা নাই। সরকার ব্যাংক থেকে কর্য করে তারপরে টাকা ছাপায়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে। বেতন দেয়ার মত কোন টাকা আওয়ামী লীগ এখানে রেখে যায় নাই।
৪০ টা ব্যাংক লুট করে আওয়ামী লীগ রেড জোনে রেখে গেছে। প্রত্যেকদিন আওয়ামী লীগের আমলে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে, প্রত্যেকদিন। সেই রাষ্ট্রে আপনি সমস্যাটা সমাধান করবেন কোত্থেকে,প্রকল্প দিবেন কোত্থেকে।
Copyright © 2026 আজকের মেইল. All rights reserved.