তরুণদের দুই দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও গণঅধিকার পরিষদ একীভূত হওয়ার জোর আলোচনা উঠলেও শেষমেশ তা আর হচ্ছে না। কয়েকটি ইস্যুতে নিজেদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় একীভূত হওয়ার আলোচনা থেকে সরে এসেছে দল দুটি। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দল এ বিষয়ে কিছু না জানালেও দল দুটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেই আলোচনার সূত্রপাত হয়। একীভূত আলোচনার একাধিক বৈঠকে দুদলের শীর্ষ পর্যায়ের সব নেতাই উপস্থিত ছিলেন। সেসব আলোচনা চূড়ান্ত কোনো রূপ না পেলেও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিলেন তারা। তবে দলের নাম, নেতৃত্ব কাঠামো, একীভূত দলে নুরুল হক নুরের সাংগঠনিক অবস্থানসহ নানা বিষয়ে মতানৈক্য ছিল। দল দুটির শীর্ষস্থানীয় অন্তত পাঁচ নেতা এই একীভূত প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থানের কথা জানান। যাদের কেউ কেউ স্পষ্ট করেন, এনসিপি-গণঅধিকার একীভূত হচ্ছে না।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার কালবেলাকে বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আমরা একীভূত হচ্ছি না। তাদের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা আলোচনাটা এগিয়ে নিচ্ছি, এনসিপির সঙ্গে তারা হয়তো যোগ দেবেন। সেই আলোচনা এগোচ্ছে, এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাবে না। পুরো পার্টি যদি আমাদের সঙ্গে চলে আসে, তাহলে তাদের কীভাবে অ্যাকোমোডেট করব, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।’
একই সুরে কথা বলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির একীভূত হওয়ার সুযোগ নেই। দলে যারাই আসবেন এনসিপির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।’
অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের নেতারাও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি স্পষ্ট করেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গণঅধিকার পরিষদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হবে না। গণঅধিকার পরিষদ ও এনসিপির একীভূত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের আরেক সদস্য আবু হানিফও একই রকম বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি এনসিপি এক বছরে যে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে আমরা একীভূত হলে তার দায় আমাদের নিতে হবে। একীভূত হওয়ার আলোচনায় শুরুতে আন্তরিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে মনে হয় এনসিপি গত এক বছরে সরকারের পৃষ্ঠোপোষকতায় যেসব অপকর্ম করেছে, তার দায় কেন গণঅধিকার পরিষদ নেবে? তা ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপির প্রতি মানুষের যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, এখন আর সেটি নেই। বরং তাদের কর্মকাণ্ডে মানুষ তাদের ওপর লীগের মতোই ক্ষুব্ধ। যার নমুনা দেখা গেছে ডাকসু, জাকসু নির্বাচনে।’
বিপরীতে গণঅধিকার পরিষদের প্রতি মানুষের ইতিবাচক ধারণা দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি আবু হানিফের। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের এক বছরেও গণঅধিকার পরিষদের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ নেই। এনসিপির অনেকেই গণঅধিকার পরিষদ ও গণঅধিকার পরিষদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মী ছিলেন। আশা করি তারাসহ এনসিপির অনেকেই পর্যায়ক্রমে গণঅধিকার পরিষদে যোগ দেবেন। এরই মধ্যে তার নমুনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে।