শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৫:০০ অপরাহ্ন

সতর্কতা দিল ভূমি মন্ত্রণালয়: এই ৯ কারণে বাতিল হচ্ছে সবার নামজারি আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫

ভূমি মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে নামজারি আবেদনের বিপুল সংখ্যক ফাইল বাতিল হচ্ছে নানা ভুলের কারণে।

অধিকাংশ আবেদনকারী মনে করেন তারা সব ঠিকঠাক করেছেন, কিন্তু বাস্তবে ছোট ছোট তথ্যগত ভুলই নামজারি বাতিলের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নিচে দেওয়া ৯টি কারণে নামজারি আবেদন রিজেক্ট হচ্ছে সবচেয়ে বেশি—

১. দলিলের চৌহদিতে ভুল

জমির চারদিকের সীমানা (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিমে কারা আছেন) ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে নামজারি অনুমোদন করা হয় না। চৌহদিতে সঠিকভাবে সব দিকের তথ্য দিতে হবে।

২. দাগ নম্বরে ভুল

দলিলে ভুল দাগ নম্বর লেখা থাকলে আবেদন রিজেক্ট হয়। সঠিক দাগ নিশ্চিত করতে বিক্রেতার সহায়তায় “ভুল সংশোধন দলিল” তৈরি করতে হয়, না হলে আদালতের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে।

৩. খতিয়ান সংক্রান্ত ভুল

খতিয়ান নম্বর, মৌজা বা জেলার নাম ভুল থাকলে নামজারি দেওয়া হয় না। রেজিস্ট্রেশনের সময় এই বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি।

৪. মালিকানার ধারাবাহিক বিবরণীতে ভুল

গত ২৫ বছরের মালিকানার ধারাবাহিকতা দলিলে ভুলভাবে উল্লেখ থাকলে নামজারি বাতিল হয়। এই অংশের একটি শব্দের ভুলও বড় প্রভাব ফেলে।

৫. ভোটার আইডির তথ্যের সঙ্গে অমিল

ভোটার আইডির নাম, ঠিকানা বা জন্মতারিখ দলিলের তথ্যের সঙ্গে না মিললে নামজারি রিজেক্ট হয়। দলিল তৈরির আগে সব তথ্য যাচাই করা জরুরি।

৬. অর্পিত সম্পত্তি

যে জমিতে অর্পিত সম্পত্তির অংশ রয়েছে, সেখানে নামজারি করা হয় না। জমি কেনার আগে ভূমি অফিস থেকে যাচাই করা বাধ্যতামূলক।

৭. খাস জমি

খাস জমি সাধারণত ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দ থাকে। কেউ এই জমি কিনলে তার নামজারি অনুমোদন পায় না এবং পরবর্তীতেও বৈধ মালিকানা দাবি করা যায় না।

৮. আগে থেকেই নামজারি হয়ে যাওয়া জমি

একই দাগ বা খতিয়ানে আগেই নামজারি হয়ে থাকলে নতুন আবেদন বাতিল হয়। বিশেষ করে যৌথ মালিকানার জমিতে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যায়।

৯. আগেই বিক্রিত জমি পুনরায় বিক্রি করা

অনেকে আগে পরিবারের সদস্যদের নামে দলিল করে পরবর্তীতে একই জমি অন্যের কাছে বিক্রি করেন। এ ধরনের জমিতে আগের মালিকানাই বৈধ ধরা হয়, ফলে নতুন ক্রেতার নামজারি বাতিল হয়ে যায়।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ:
জমি কেনার আগে স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে রেকর্ড, দাগ নম্বর ও খতিয়ান যাচাই করা অপরিহার্য। দলিল তৈরির সময় অবশ্যই অভিজ্ঞ আইনজীবী বা ভূমি বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া উচিত।

শেষ কথা:
দলিল করা সহজ, কিন্তু নামজারি পাওয়া কঠিন। তাই ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে— ‘ভুলে নয়, যাচাই করে জমি কিনুন।’ তাহলেই নামজারি বাতিলের ঝামেলা থেকে রেহাই মিলবে।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা