শিরোনাম
সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন

পিতা যদি সব সম্পত্তি এক সন্তানকে লিখে দেন, তখন বাকি সন্তানদের করণীয়!

Reporter Name / ৪৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫
ফাইল ছবি

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুসারে, একজন ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তাঁর সম্পত্তি যাকে খুশি তাকে দান বা হস্তান্তর করতে পারেন। তবে এই হস্তান্তর অবশ্যই বৈধ এবং সঠিক আইনি পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

সম্পত্তির হস্তান্তরের প্রকারভেদ এবং আইনি বৈধতা
বিষয়টিকে কয়েকটি ভাগে আলোচনা করা যায়:

১) মৃত্যুর আগে সম্পত্তি ওসিয়ত বা উইল করা: মুসলিম উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩ অংশ) সম্পত্তি ওসিয়ত করা যেতে পারে। যদি এক-তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তি অন্য উত্তরাধিকারীদের অনুমতি ছাড়া ওসিয়ত করা হয়, তবে তা আইনত বৈধ নয়। এই ক্ষেত্রে বঞ্চিত সন্তানরা আদালতের মাধ্যমে সেই ওসিয়তকে চ্যালেঞ্জ করে নিজেদের প্রাপ্য অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারেন।

২) সাদা কাগজ বা নন-রেজিস্টার্ড দলিল ব্যবহার: শুধুমাত্র সাদা কাগজ, সাধারণ নোটারী, স্ট্যাম্প পেপার বা অরেজিস্টার্ড কোনো দলিল সম্পত্তির ওপর কোনো প্রকার মালিকানা তৈরি করে না। এই ধরনের দলিলের ভিত্তিতে কেউ মালিকানা দাবি করলে, অন্যান্য বৈধ ওয়ারিশরা সহজেই আদালতে মামলা করে সেটিকে বাতিল করতে পারেন।

৩) জরিপ (খতিয়ান) বা রেকর্ডে নাম অন্তর্ভুক্ত করা: শুধুমাত্র জরিপ বা রেকর্ডে নাম থাকলেই কোনো ব্যক্তি সম্পত্তির নিরঙ্কুশ মালিক হয়ে যান না। এটি কেবল একটি প্রাথমিক প্রমাণ (প্রাইমাফেসি প্রমাণ)। অন্য বৈধ ওয়ারিশরা চাইলে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করে আইনিভাবে নিজেদের অংশ বুঝে নিতে পারেন।

৪) হেবা (দান) বা সাবকবলা (বিক্রয়) রেজিস্ট্রি করা: পিতা যদি তাঁর জীবদ্দশায় রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তি হেবা বা বিক্রয় করেন, তবে সেটি সম্পূর্ণ আইনগতভাবে বৈধ বলে গণ্য হবে। এই ক্ষেত্রে বাকি সন্তানেরা আইনগতভাবে এই হস্তান্তরে কোনো বাধা দিতে পারবেন না।

যে সন্তান সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তিনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:

১. প্রথমে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করতে হবে। ২. সংগৃহীত সনদে সকল বৈধ ওয়ারিশের নাম সঠিকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ৩. এরপর একজন দক্ষ সিভিল আইনজীবীর সাথে বিস্তারিত পরামর্শ করা আবশ্যক। ৪. আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করতে হবে। ৫. আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সম্পত্তির নামজারি ও রেকর্ড সংশোধন সম্পন্ন করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সম্পত্তি বণ্টন বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
ভুল তথ্য বা আইন দ্বারা অসমর্থিত অরেজিস্টার্ড কাগজপত্রের ওপর কোনো অবস্থাতেই নির্ভর করবেন না।
যদি কোনো চাপ বা প্রতারণার শিকার হন, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা