ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি—যার মৃত্যু কেবল একটি জীবনের অবসান নয়, বরং রেখে গেছে সততা ও অকুতোভয় সংগ্রামের এক অনন্য দলিল। মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর দেওয়া একটি পোস্ট এখন মানুষের হৃদয়ে দাগ কাটছে। আড়ম্বরহীন জীবনের অধিকারী এই লড়াকু মানুষটি চেয়েছিলেন স্রষ্টার কাছে ফেরার মুহূর্তটিও যেন হয় সাদামাটা।
ওসমান হাদির ভেরিফায়েড পেজে ১৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে একটি কফিনের ছবিসহ যে পোস্টটি শেয়ার করা হয়, তাতে মিশে ছিল তাঁর সারাজীবনের সততা ও আদর্শের তেজ। তিনি লিখেছিলেন:
“হারাম খাইয়া আমি এত মোটাতাজা হই নাই, যাতে আমার স্পেশাল কফিন লাগবে! খুবই সাধারণ একটা কফিনে হালাল রক্তের হাসিমুখে আমি আমার আল্লাহর কাছে হাজির হবো।”
এই একটি বাক্যেই তিনি বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন যে, পার্থিব লোভ-লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। অনৈতিক উপায়ে সম্পদ অর্জনের মিছে প্রতিযোগিতায় তিনি গা ভাসাননি বলেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলতে পেরেছেন যে, সাধারণ এক কফিনই তাঁর শেষ যাত্রার জন্য যথেষ্ট। তাঁর এই ‘হালাল রক্তের হাসি’ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রবল অনুপ্রেরণার নাম।
শহীদ ওসমান হাদি বিশ্বাস করতেন জীবনের স্থায়িত্ব কেবল নিশ্বাসে নয়, বরং আদর্শে। তাঁর অন্য একটি পোস্টে তিনি মৃত্যুর ভয়কে তুচ্ছ করে লিখেছিলেন, “মৃত্যুর ফয়সালা জমিনে নয়, আসমানে হয়।” তিনি মনে করতেন শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই তিনি পৃথিবীতে এসেছেন। তিনি চলে গেলেও তাঁর সংগ্রাম থেমে থাকবে না; তাঁর সন্তান এবং অগণিত আজাদের উত্তরসূরিরা এই স্বাধীনতার পতাকা সমুন্নত রাখবে—এমনটিই ছিল তাঁর গভীর বিশ্বাস।
ইনকিলাব মঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) শরীফ ওসমান বিন হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে আনা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে (বিজি ৪৫৮) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে সিঙ্গাপুর ত্যাগ করেছে তাঁর মরদেহবাহী কফিনটি। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ সন্ধ্যা ৬টা ০৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করার কথা রয়েছে।
শহীদ ওসমান হাদির এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যেন কেবল একটি মরদেহের ফেরা নয়, বরং এক আপসহীন কণ্ঠস্বরের চিরস্থায়ী হয়ে ওঠা। সাধারণ কফিনে ফেরার সেই শেষ ইচ্ছাটিই এখন তাঁর লক্ষ লক্ষ অনুসারীদের চোখে এক অনন্য সম্মানের প্রতীক।