মন্ত্রীদের কাছে নানা প্রত্যাশা স্থানীয়দের, আছে চ্যালেঞ্জ
দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিয়েছেন। বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষসহ সব মহলে কৌতূহল ছিল। অবশেষে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন ২৫ মন্ত্রী। এর মধ্যে ১৬ জন প্রথমবারের মতো দায়িত্ব নিয়েছেন। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ২৪ জনই প্রথমবার মন্ত্রিসভায় ডাক পেলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ লোকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আনন্দ উদযাপন করতে দেখা যায় তাদের। পাশাপাশি জনপ্রত্যাশা পূরণ, উন্নয়ন ও নানা সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন তারা। যেগুলো পূরণ করা নিয়ে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য আছে চ্যালেঞ্জ।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রবীণ-নবীন, অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাদের নিয়ে এবার মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন তারেক রহমান। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে। তাদের হাত ধরে বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন যেমন আরও শানিত হবে, তেমনি দেশের সমগ্র অঞ্চলের উন্নয়নে গতি আসবে এবং গণমানুষের কল্যাণ হবে। তারা এজন্য দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এ নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আনন্দ উদযাপন করেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের মুদি দোকানি আবুল হাশেম বলেন, ‘পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় জেলার মানুষ খুশি। আমার প্রত্যাশা, এর ফলে ঠাকুরগাঁওয়ের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসবে।’
জেলার প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় এলাকার উন্নয়নে কাজ করার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এই দায়িত্ব পাওয়া উচিত ছিল। এতে জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের আশা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। গুরুত্বপূর্ণ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় কক্সবাজারের আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন বিএনপি, ছাত্রদল কর্মী ও সমর্থকরা। তাদের আশা, সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে। যদিও রোহিঙ্গা সংকট সমাধান চ্যালিঞ্জিং।
চট্টগ্রামের দুই মন্ত্রীর কাছে প্রত্যাশা
মন্ত্রী হয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসন থেকে নির্বাচিত মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এর আগে বিএনপি সরকারের মেয়াদে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হয়েছেন। এবার আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দুজনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় নিজ নিজ এলাকার লোকজন এবং নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। খুশিতে এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে দুই মন্ত্রীর কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে দায়িত্ব পাওয়া দুজন মন্ত্রীকে আমাদের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি জানেন চট্টগ্রামকে আদর্শিক ব্যবসাবান্ধব নগরী গড়তে কী কী প্রয়োজন এবং কোথায় কোথায় প্রতিবন্ধকতা আছে। আমাদের সঙ্গে আগেও একাধিকবার বৈঠকে আমরা চট্টগ্রামের সমস্যাগুলো তাকে বলেছি। আশা করছি, এবার তিনি চট্টগ্রামকে ব্যবসাবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
বাংলাদেশ নন প্যাকার্স ফ্রোজেন ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে দুজনকে মন্ত্রী দেওয়া হয়েছে। আমরা খুশি হয়েছি। যেহেতু এবার চট্টগ্রাম থেকে অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেহেতু আশা করছি এবার চট্টগ্রামে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন হবে। বিএনপির সময়ে চট্টগ্রামকে যে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল এবার তার বাস্তবায়ন চাই। মীর হেলাল উদ্দিনের কাছেও আমাদের দাবি চট্টগ্রামকে ব্যবসাবান্ধব করতে যেসব সমস্যা আছে, তা অপসারণ করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবেন।’
সিলেটে প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী, প্রত্যাশা বেশি
প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হলেন সিলেটের খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও আরিফুল হক চৌধুরী। এর মধ্যে একজনকে তিনটি মন্ত্রণালয়ের এবং একজনকে দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, খন্দকার মুক্তাদির ‘আকাঙ্ক্ষার সিলেট’ নামে ১১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সিলেটে নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মন্ত্রিত্ব লাভ করায় তার পক্ষে এখন ইশতেহার বাস্তবায়ন করা সহজতর হবে।
আরিফুল হক চৌধুরী দুবার মেয়র পদে বিজয়ী হয়ে সারাদেশে আলোচিত হন। এবার এমপি হওয়ার পর মন্ত্রী হয়েছেন। তিনিও নিজ এলাকা ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশা তাদের।
মামা মন্ত্রী ও ভাগনে প্রতিমন্ত্রী, সিরাজগঞ্জে উন্নয়নের আশা
সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে এবার একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন মামা ও ভাগনে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ভাগনে ড. এম এ মুহিত। তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন চায় সাধারণ মানুষ। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০০১ সালে জোট সরকারের আমলে তিনি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী পরে কৃষি প্রতমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শাহজাদপুর আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো দাঁড়িয়ে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মুহিত। এলাকার মানুষের উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাত এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে মামা-ভাগনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।
মিন্টুর নেতৃত্বে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা বাদ দিলে ফেনী জেলা থেকে গত ৩৬ বছর পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে কেউ দায়িত্ব পাননি। এবার সেই খরা কাটলো। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফেনী-৩ (সোনাগাজী, দাগনভূঞা) আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। মিন্টু মন্ত্রী হওয়ায় এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। তাকে মন্ত্রী মনোনীত করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দাগনভূঞাসহ সারা দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একজন পরীক্ষিত বিএনপির নেতা। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন, আমরা দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছি, একজন যোগ্য লোককে যোগ্য স্থানে দেওয়া হয়েছে। তিনি সফলতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছে। জনগণের বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হওয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞা-সোনাগাজীর ব্যাপক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন।’
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আকবর হোসেন বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণে শতভাগ চেষ্টা করবেন। দাগনভূঞা-সোনাগাজীকে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।’
স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন ডা. জাহিদ
দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষের এমপি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করায় হিলিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। নিজ নির্বাচনি এলাকায় মিষ্টি বিতরণ ও মিছিল করেছেন দলের নেতাকর্মীরা।
হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি পারুল নাহার বলেন, ‘আজকে আমাদের হাকিমপুর তথা দিনাজপুর-৬ আসনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আমরা অনেক দিন পর ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছিলাম। এ জন্য জাহিদ হোসেনকে এমপি নির্বাচিত করেছি। সেইসঙ্গে তাকে মন্ত্রী করা হয়েছে। জীবনে প্রথম আমাদের এলাকার একজনকে মন্ত্রী পেয়েছি। এ জন্য আমাদের আনন্দটা একটু বেশি; ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। মন্ত্রী হিসেবে জাহিদ হোসেন স্বাস্থ্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
মিনুর কাছে প্রত্যাশা অনেক
উত্তরাঞ্চলের জনপ্রিয় রাজনীতিক রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। এতে উচ্ছ্বসিত রাজশাহীর মানুষ। দলমত নির্বিশেষে রাজশাহীর সকল শ্রেণিপেশার মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। পাড়া-মহল্লায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
মন্ত্রী হওয়ার পর মিনু বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তো বটেই, রাজশাহীর জন্যও নিরলসভাবে কাজ করে যাবো। আমি এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। এটি পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে চাই। সুনির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, সেগুলো সবার সহযোগিতায় বাস্তবায়ন করবো।’
রাজশাহী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক শফিকুল আলম সমাপ্ত বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা মিনু ভূমিমন্ত্রী হয়েছেন। এতে আমরা সবাই খুশি। তিনি এমন একজন মানুষ, যার কাছে যেকোনও মানুষ সহজেই যেতে পারেন। তিনি সবার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সাধ্যমতো সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেন।’
রাজশাহী মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, ‘মিনু ভাই আধুনিক রাজশাহীর রূপকার। তিনি নিজের সন্তানের মতো করে এই শহরকে গড়ে তুলেছেন। এই দলের জন্য তিনি নিজের সারাটা জীবন উজাড় করে দিয়েছেন। তাকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এজন্য আমরা রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে পার্টির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানাই।’
দুলুর ওপর আছে আস্থা
লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ৮৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসাদুল হাবিব দুলু। বিএনপি সরকারে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। আসাদুল হাবিব দুলু সামাজিক আন্দোলন ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ ও ‘তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়ক। তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার মানুষের অধিকার ও নদী রক্ষার দাবিতে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি তিস্তা পাড়ের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেন।
লালমনিরহাট জেলা বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল বাশার সুমন বলেন, ‘তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক মানুষ হিসেবে আসাদুল হাবিব দুলু জানেন, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুরের কোন স্থানে কী উন্নয়ন করলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।’
নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চ্যালেঞ্জ এ্যানির
পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব এবং লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবরে লক্ষ্মীপুরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে প্রত্যাশা ও আশাবাদ। সদর উপজেলার কমলনগর উপজেলার বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতি বছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারাতে হয়। তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী হওয়ায় আমরা আশা করছি, ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সদর উপজেলার চর রুহিতার বাসিন্দা সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকার একজন জাতীয় পর্যায়ে মন্ত্রী হয়েছেন—এটা লক্ষ্মীপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। দীর্ঘদিন পর এমন সুখবর পেলাম।’
পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনগত সংস্কারে ফরিদুল ইসলামের ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা
উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও আইনগত সংস্কারে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।
রামপাল উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই দাবি করেছিলাম। এখন পেলামও। আমরা সত্যিই সম্মানিত ও গর্বিত। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে আইন, বিচার ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান আমাদের এলাকার প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গভীর আস্থা ও মূল্যায়নের প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, শেখ ফরিদুল ইসলাম এই দায়িত্বগুলো দক্ষতার সঙ্গে পালন করে মোংলা-রামপালসহ সমগ্র দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।’
জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন নতুন মাত্রা পাবে
জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে মিষ্টি বিতরণ করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন রশিদ ও পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ। হারুন রশিদ বলেন, ‘জোনায়েদ সাকির প্রতিমন্ত্রী হওয়া বাঞ্ছারামপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়। তার নেতৃত্বে এলাকার উন্নয়ন নতুন মাত্রা পাবে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন।’
পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ফয়সাল বিন ইউসুফ বলেন, ‘জোনায়েদ সাকির মতো যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। তার মাধ্যমে বাঞ্ছারামপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।’
মিল্লাতের কাছে স্থানীয়দের প্রত্যাশা
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মন্ত্রিসভায় জায়গা পাওয়ার খবরে জামালপুর শহরে আনন্দমিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে এসে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন তিনি। দলের প্রতি নিষ্ঠা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনকল্যাণে নিরলস কাজের স্বীকৃতি এটি। তারা আশা করেন, তার নেতৃত্বে জামালপুরে আগামী দিনে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে আরও এগিয়ে যাবে।’
আব্দুল বারীর কাছে চায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন
মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন জয়পুরহাট-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল বারী। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথে জয়পুরহাট শহর ও তার নির্বাচনী এলাকা আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল—এই তিন উপজেলার লোকজন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করেছেন। কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন বলেন, ‘আব্দুল বারী সাহেব প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের কালাই উপজেলায় তার জন্মস্থান। এ কারণে আমাদের একটু আলাদা অনুভূতি রয়েছে। দেশ স্বাধীনের পর জয়পুরহাট-২ আসনে কোনও মন্ত্রী পাইনি। এ কারণে এই আসনের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। এই আসন থেকে আব্দুল বারী সাহেব প্রথম মন্ত্রিত্ব পেলেন। তার হাত ধরে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।’
শাহে আলম মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, এমনটাই আশা
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ তিন দশক পর বগুড়া থেকে কেউ মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই পেলেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওহাব বলেন, ‘মীর শাহে আলম তৃণমূল থেকে উঠে আসা পরীক্ষিত, ত্যাগী এবং মাটি ও মানুষের নেতা। এবারের নির্বাচন ছিল বিএনপির জন্য খুবই চ্যালেঞ্জের। নানামুখী ষড়যন্ত্র আর কালোটাকা ছড়ানোর পরও শিবগঞ্জবাসী বিপুল ভোটে মীর শাহে আলমকে বিজয়ী করেছেন। তিনি এলাকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন বলে আশা করছি।’