শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন

গণভোট বাতিল হলে এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে: নাহিদ ইসলাম

Reporter Name / ১১ Time View
Update : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তিনি বলেন,এই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্খা ও গণভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি,ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে।

তিনি বলেন,এই নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয়, তাহলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দেব।’

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি।

এসময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করেন, ‘যদি গণভোট বাতিল হয়ে যায়, তাহলে এই নির্বাচনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কারণ আপনি কোন সংবিধান অনুযায়ী এই নির্বাচন করেছেন?’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সারাদেশে জেলায়, উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়ায় উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন,আমরা আশাহত হয়েছি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা শপথ নিয়েছি। কিন্তু প্রথমদিনেই শপথ গ্রহণ নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে।’

তিনি বলেন,এই নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্খা ও গণভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন,আশা করি তারা দ্রুত শপথ নিবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারে উদ্যোগ নিবে।’

সংসদ অধিবেশন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা আহ্বান জানাই দ্রুত অধিবেশন ডাকার এবং তার আগে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার।’

মন্ত্রীসভা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মন্ত্রীসভায় আঞ্চলিক বৈষম্য করা হয়েছে। দেশের অনেকগুলো বৃহত্তর অঞ্চল থেকে মন্ত্রী করা হয়নি। একইসঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। নারী ও সংখ্যালঘু থেকে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হয়নি।’

নাহিদ ইসলাম বলেন,এই মন্ত্রীসভার গড় বয়স ৬০। তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন মন্ত্রীসভায় হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মন্ত্রীসভার ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দেবে বেশি। আবার এই ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই ঋণখেলাপী। এই ব্যবসায়ীদের ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘তিনটি মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, খুন ও ঋণখেলাপী হওয়ার অভিযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘সেই ঋণ তারা কবে পরিশোধ করবে এটা বাংলাদেশের মানুষ জানতে চাই। ঋণ পরিশোধ ছাড়া তাদের মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তারাও এই মন্ত্রীসভায় স্থান পেয়েছেন।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা