শিরোনাম
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন

এমপি-মন্ত্রীরা যেদিন ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেবেন, সেদিনই স্বাস্থ্যখাতের দুর্দশা কাটবে

Reporter Name / ১৮ Time View
Update : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর বেহাল দশা, অব্যবস্থাপনা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মোঃ আমানউল্লাহ আমান।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হাসপাতালগুলোতে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক লেখেন,”বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র আমাকে প্রচন্ড পীড়া দেয়। সহযোদ্ধা বা স্বজনদের অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে গেলে সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ দেখে মন খারাপ হয়ে যায়। মনে হয়, সুস্থ মানুষও এখানে কিছুক্ষণ থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বে।”

জনবিস্ফোরণের কারণে শয্যা সংকটের বিষয়টি স্বীকার করলেও, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান নিয়ে কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই ছাত্রনেতা। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সরকারি হাসপাতালে প্রবেশ করলেই দুর্গন্ধে বমি আসার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য।

এখানে আমি শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দোষ দিচ্ছি না জনবিস্ফোরণের এই দেশে আসন সংখ্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা যে অনেক বেশি সেটাতো দৃশ্যমান কিন্তু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে আপনাদের আন্তরিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।

আমাদের অনেক সরকারি হাসপাতালে ঢুকলেই সিম্পলি বমি এসে যায় গন্ধে! এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য”, লেখেন তিনি।

স্বাস্থ্যখাতের সংস্কারের জন্য তিনি সরকারের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরে লিখেছেন, “বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বেহাল দশা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান গণমানুষের সরকারকে অবশ্যই আশু পদক্ষেপ নিতে হবে।স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, দালালের দৌরাত্ম্য এবং সেবার বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশের জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, আধুনিক সরঞ্জামাদি সরবরাহ, জনবল সংকট হ্রাস করা অত্যন্ত জরুরি।”

স্বাস্থ্যখাতের সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

দেশের ধনকুবেরদের প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে আমান বলেন, “যারা আজ হাজার কোটি টাকার মালিক, তাদের এই অবস্থানের পেছনে সাধারণ মানুষের বড় ভূমিকা রয়েছে। সর্দি-কাশিতেও যারা মাউন্ট এলিজাবেথ বা বিদেশ পাড়ি জমান, তাদের উচিত দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে এগিয়ে আসা।”

নিজের বক্তব্যের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলাম— যেদিন আমাদের দেশের এমপি-মন্ত্রীরা অসুস্থ হলে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসবেন, সেদিন থেকেই আমাদের স্বাস্থ্যখাতের এই বেহাল দশা কেটে যাবে।”

সবশেষে, বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থা রেখে ছাত্রদলের এই নেতা আশা প্রকাশ করেন যে, জনগণের সরকার হিসেবে তারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের এই করুণ দশা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ও গভীর মনোযোগ দেবেন।

সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা