ফরিদপুরের সালথায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে একপক্ষের নেতৃত্ব দেন উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মাতুব্বর ও অপরপক্ষের নেতৃত্ব দেন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হেমায়েত মাতুব্বর।
এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালীন ইউনিয়ন কৃষক দলের কার্যালয়সহ বিএনপি সমর্থিত গ্রুপের ৮টি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদল নেতা ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের কাছ থেকে হেমায়েত মাতুব্বর একটি জমি ক্রয় করেন। সেই বুঝিয়ে না দেওয়া ও জমি মাপা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে দুপুরে স্থানীয়ভাবে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে শালিসে বসেন দুইপক্ষ এবং এক পর্যায়ে জমি মাপার সময়ে দুই পক্ষ বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, ঢাল-সড়কি নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
এ সময় হেমায়েত মাতুব্বরের নেতৃত্বে কৃষকদল নেতা ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক মিন্টু মুন্সি, সেলিম মুন্সি, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মির্জা মুন্সি, সেলিম চোকদার, বাচ্চু চোকদার ও আসাদ শেখের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
এ ছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় আব্বাস মাতুব্বর (২৭), আসাদ (২৭), পিকুল মাতুব্বর (৫৪), লিটন মীরকে (৩৫) উদ্ধার করে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
কৃষকদল নেতা ফারুক মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, ‘হেমায়েত মাতুব্বর একটি জমি বাচ্চু চোকদারের কাছে বিক্রি করেন কিন্তু জমি বুঝিয়ে দিচ্ছিল না। যার কারণে আজ পুলিশের উপস্থিতি সালিশ হয়েছিল এবং আগামী সোমবার মাপজোপের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু সালিশের শেষ পর্যায়ে হেমায়েত মাতুব্বরের ভাই ফয়সাল মাতুব্বর, আসলাম সহ ১০ থেকে ১৫ জন এসে ঝামেলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আমার লোকজনকে ধাওয়া দিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট করে। আমার অফিসেও ভাঙচুর করা হয়েছে।’
স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হেমায়েত মাতুব্বর বলেন, ‘আজকে কী ঘটনা ঘটেছে, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না এবং আমি ঘটনার সাথে জড়িত নই।’
সালথা থানার ওসি ইন্দ্রজিৎ মল্লিক জানান, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় পরিবেশ এখন শান্ত রয়েছে। অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’