• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন

তিন উপজেলায় সরকারি ভবনে সোলার প্রকল্প, অস্পষ্ট ব্যয়

Reporter Name / ৪৮ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছবি ও নিউজ: দৈনিক ফেনী

উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
তিন উপজেলায় সরকারি ভবনে সোলার প্রকল্প, অস্পষ্ট ব্যয়

সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদ কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর ফেনী সফরে এলে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

ফেনী পল্লী বিদ্যুত সমিতির তথ্যমতে, দেশে প্রথমবার এই তিন উপজেলায় স্থাপিত সোলার সিস্টেমের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৯৬২ দশমিক পাঁচ কিলোওয়াট বা শূন্য দশমিক ৯৬ মেগাওয়াট। তবে এই প্রকল্পের আর্থিক ব্যয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফুলগাজীর ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের প্রতিটিতে প্রায় ২৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি স্থাপনায় ৪১টি করে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবনে স্থাপিত সিস্টেমের সক্ষমতা প্রায় ১০৩ কিলোওয়াট। উপজেলার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতেও সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদ ভবন, পৌরসভা ভবন, ডাকবাংলো, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে মোট ১২টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। অন্যদিকে পরশুরাম উপজেলায় উপজেলা পরিষদ ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসহ মোট ছয়টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোহাম্মদ শাহিন দৈনিক ফেনীকে বলেন, ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট এবং ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বাস্তবায়নে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে এই প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নিয়মিত প্রক্রিয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্রসহ আনুষঙ্গিক প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সময় লাগতে পারে। এ কারণে দ্রুত কাজ শেষ করতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে এগিয়ে আসতে হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় প্রসঙ্গে ডিজিএম জানান, প্রকল্পের ব্যয় ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নিজস্ব তহবিল থেকে নিয়ম অনুযায়ী নির্বাহ করা হবে। তবে মোট ব্যয়, প্রতিটি স্থাপনায় খরচ কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিমূল্য সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. হাবিবুর রহমান দৈনিক ফেনীকে বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আরইবি সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ভবন, ডাকবাংলো ও ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদসহ আটটি স্থাপনায় প্রায় ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। তবে প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ বা মোট ব্যয়ের বিষয়ে তিনি অবগত নন। ব্যয়ের বিষয়ে জানতে তিনি ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম’র সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দেন।

ফুলগাজীতে সোলার প্যানেল স্থাপনকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সুপারস্টার সিস্টেমের ব্যবস্থাপক নাজিবুল আহমেদ বলেন, উপজেলা পরিষদ ভবন, ডাকবাংলো এবং ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্থাপনায় মোট প্রায় ২৪৯ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

এ ব্যাপারে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ বলেন, নেট মিটারিং চালু হলে উপজেলার সরকারি অফিসগুলোর বিদ্যুৎ বিল কমে আসবে। এসব স্থাপনায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহৃত হবে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।

একই প্রসঙ্গে পরশুরাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মু. সুহেল আখতার জানান, পরশুরামে ২৯৮ দশমিক ৫ কিলোওয়াট উৎপাদনক্ষমতার সোলার স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রহিম আফরোজ।

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফারহানা পৃথা জানান, উপজেলা পরিষদ ভবন পৌরসভা ভবন ডাকবাংলো ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে মোট ১২ টি স্থাপনায় সোলার প্যানেল বসেছে।

প্রকল্পের ব্যয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. নুরুল হোসাইন দৈনিক ফেনীকে বলেন, দেশের মধ্যে সরকারি ভবনে এটিই প্রথম সোলার প্রকল্প। ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর ঘিরে প্রকল্পের উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় আরইবিকে দায়িত্ব দিয়েছে। সেজন্য এটি স্থাপনে সুনির্দিষ্ট ব্যয়ের তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে তিন উপজেলায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা