• শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

‘জমি লিখে না দিলে কবরও হবে না’—বৃদ্ধকে কৃষক দল নেতার হুমকির অভিযোগ

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সুলায়মান হোসাইনের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা, হয়রানি ও হুমকির অভিযোগ করেছে একটি পরিবার। ওই পরিবারের গৃহকর্তা ৮২ বছরের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেনকে ‘জমি লিখে না দিলে কবরও দিতে দেবে না’ বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ পরিবারটির। এ ছাড়া তাঁর ছেলের চাকরি খোয়ানোর জন্য সর্বোচ্চ মহলে তদবির করে যাচ্ছেন ওই কৃষক দল নেতা। এই অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুতি জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় নিরাপত্তা ও কৃষক দল নেতার হয়রানি থেকে মুক্তি চেয়ে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারটির সদস্যরা। তাঁরা ফরিদপুর জেলা সদরের গেরদা ইউনিয়নের নিখুরদি গ্রামের বাসিন্দা। এ সময় তাঁরা কৃষক দল নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন।

পরিবারটির সদস্যরা জানান, সুলায়মান হোসাইন তাঁদের প্রতিবেশী এবং কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক পদে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁদের জমি দখল, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিসহ নানাভাবে হয়রানি করে আসছেন তিনি। এর মধ্যে পাঁচটি দাগে প্রায় ৫৯ শতক জমি দখলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে হুমকি ও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছেন বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে সালিস-মীমাংসা, থানা থেকে আদালতে গড়িয়ে হেরে গেলেও বর্তমানে জোরপূর্বক জমি লিখে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বৃদ্ধ আলতাফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার কেনা জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও এই সুলায়মান জবরদস্তি করে বিগত ১৫ বছর ধরে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় পদ পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। আমার জমি নেওয়ার জন্য ৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত তার ক্ষমতা দিয়ে জুলুম-নির্যাতন, মামলা, হয়রানি, প্রতিবন্ধকতা, সীমানার বাউন্ডারি উঠিয়ে দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসীদের দিয়ে বারবার হামলাসহ তিলে তিলে আমাদের শেষ করে দিচ্ছে।’

আলতাফ হোসেনের দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে ইউসুফ হোসেন নূর বর্তমানে পুলিশের এএসআই হিসেবে মাগুরা জেলায় কর্মরত রয়েছেন। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় পুলিশের চাকরি থেকে বরখাস্ত করার জন্য সুলায়মান সর্বোচ্চ মহলে তদবির করছেন বলে আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন।

আলতাফ হোসেন বলেন, ‘২০২৩ সালে ইউসুফ নূর বাদী হয়ে কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইনকে আসামি করে ভূমি প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করে। এর পর থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে জুলাই আন্দোলনে আমার ছেলের নামে মিথ্যা হত্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেখানেই কর্মরত থাকে, সেখানে গিয়ে বিএনপির নেতাদের দিয়ে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করে। অথচ আমি একজন বিএনপির কর্মী এবং আমার এই ছেলেকে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী মরহুম চৌধুরী কামাল ইউসুফ চাকরি দিয়েছিল।’

ভূমি প্রতিরোধ আইনের মামলায় সম্প্রতি সুলায়মানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর গত ৮ জুলাই কোতোয়ালি থানার এসআই সমীর তাঁকে গ্রেপ্তার করতে যান, তখন এসআই সমীরকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার হুমকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। যার একটি অডিও রেকর্ড উপস্থাপন করেন আলতাফ হোসেন।

এ সময় আলতাফ হোসেন কেঁদে কেঁদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে বলেন, ‘আমার বসতঘর থেকে সুলায়মানের বসতঘরের দূরত্ব ১০ ফিটের মতো। বাড়িতে এসেই রাতের বেলা আমার ঘরে ঢুকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে এবং বলে—‘‘কাগজে সই করে দাও, নইলে মরলে কবরে মাটি দিতে দেব না।’’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার অনুরোধ—এই বয়সে আমার বৈধ জমিতে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। দয়া করে আপনি এই সুলায়মান ও তাঁর পরিবারের জুলুম, অত্যাচার আর নির্যাতন হতে বাঁচান এবং আমার ছেলের চাকরিকেও বাঁচান।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অস্বীকার করেন কৃষক দল নেতা সুলায়মান হোসাইন। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ বানোয়াট। জমিগুলো নিয়ে আমার বাবার নামে দলিল আছে, বাবার মৃত্যুর পর থেকে ওই জমি দখল করে ছোট বেলায় আমাদের উচ্ছেদ করে দিয়েছিল। আমার বাবার বৈধ জমি বুঝে নিতে গেলে এই বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুল ভাইয়ের (কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য) বাড়িতে এক সালিসের সিদ্ধান্তের পর আলতাফ হোসেন স্বাক্ষর করে, কিন্তু বাড়িতে ফিরেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমি বুঝিয়ে দেয়নি। কখনো সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি। বর্তমানে আদালতে বণ্টন মামলাও চলমান এবং এখন এটা আদালতের বিষয়।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা