মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

৬ বছর আগে অপহৃত আবদুল আহাদের মৃত্যু ঘিরে কাটছে না ধোঁয়াশা

হাবীব মিয়াজী / ১০০ Time View
Update : শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় অজ্ঞাত এক মরদেহ উদ্ধারের পর তার পকেটে পাওয়া একটি ব্যাংক চেকের সূত্র ধরে জানা যায় মৃত ওই ব্যক্তির নাম মো. আবদুল আহাদ (৪২)। পরে তার পরিচয়, কর্মজীবন, ৬ বছর আগে অপহরণ হওয়ার ঘটনা এবং ফেনীতে মরদেহ উদ্ধার হওয়া নিয়ে ওঠেছে নানা প্রশ্ন। মৃত্যুর তিন দিন পার হলেও এ নিয়ে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা।

এদিকে ফেনী থেকে আবদুল আহাদের মরদেহ নিজ জেলা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় নেওয়ার পর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) হাজীপুর ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামে পৈত্রিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই শেখ আব্দুর নুর ঢাকা পোস্টকে মোবাইল ফোনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে আবদুল আহাদের পরিচয় শনাক্তে পকেটে পাওয়া চেকের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) উত্তরা ব্যাংক ফেনী শহরের বিরিঞ্চি শাখায় গিয়ে জানা যায়, আবদুল আহাদ এ ব্যাংকে ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন। হিসাবটিতে তেমন লেনদেন করেননি, চলতি বছরের ২৫ মে শেষবার তিনি টাকা উত্তোলন করেন। তবে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ হিসাবে তিনি উত্তরাধিকারী করেছেন তার বড় মেয়ে বুশরা জান্নাতকে, তখন মেয়ের বয়স ছিল ৫ বছর। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দ্বিতীয় মেয়ে মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় তিনি অপহরণের পর নিখোঁজ হন।

এছাড়া ব্যাংক হিসাবে আবদুল আহাদ নিজেকে একজন ফল বিক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখান দ্বিতীয় শ্রেণি পাস। অথচ পরিবার ও তার অপরহণের অভিযোগ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী তিনি সিলেট এমসি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন সিলেটের একটি বেসরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক হিসেবে। পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, পরবর্তীতে তিনি সিলেট বিমানবন্দরে কাস্টমসের অডিটর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি করেন। এরপর একই পদে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও পরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল আহাদ নিখোঁজের পর ২০১৯ সালের ২৭ মে সিলেট কোতোয়ালি থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) অনুলিপি তার ভাই শেখ আব্দুর নুরের মাধ্যমে প্রতিবেদকের হাতে আসে। এতে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের ২ মে আবদুল আহাদ ২৬৯ শেখঘাট কোতোয়ালি, সিলেটের ঠিকানা থেকে ব্যবসার কাজে বেরিয়ে আর ফেরেননি। অন্যদিক, এ ঘটনার আট মাস পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তখনকার একটি সংবাদে দেখা গেছে, আব্দুর নুর বাদী হয়ে আবদুল আহাদকে অপহরণের অভিযোগে জামালপুর জেলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। ওই সংবাদে পরিবারের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল কমলগঞ্জ উপজেলার কুমড়াকাপন এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরেননি আবদুল আহাদ।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা