ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে শিরিন আক্তার (৩৮) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের পশ্চিম জের কাছাড় (চোছনা) গ্রামের নির্জন একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। রাতে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই গৃহবধূর স্বামী মোহাম্মদ মানিক দীর্ঘদিন যাবৎ প্রবাসে থাকেন।
নিহত শিরিন আক্তার শর্শদীর ইউনিয়নের জের কাছাড় গ্রামের মো. মানিক মিয়ার স্ত্রী। তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে রয়েছে। তার স্বামী বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, রিনা আক্তার তার স্বামীর ক্রয়কৃত জমির পাশের ভাড়া বাসায় দীর্ঘ বছর যাবৎ বসবাস করতেন।
পাশেই রিনা আক্তারের নতুন বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। মঙ্গলবার বিকাল থেকে ঘরে শিরিন আক্তারকে না দেখতে পেয়ে সন্তানরা খোঁজাখুঁজি করতে থাকে।
একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহের ভিত্তিতে বালু সরাতে শুরু করলে ভেতর থেকে শিরিন আক্তারের মরদেহ উদ্ধার হয়। পরে ঘরের একটি কক্ষে বালুর নিচে তার মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানায়, এ ঘটনায় স্থানীয় রাজমিস্ত্রি সাইফুল ইসলাম অথবা নিহত নারীর বড় সন্তান জড়িত থাকতে পারে। তারা দুজনই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অভিযুক্ত সাইফুল একই এলাকার জমিদার বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে। ঘটনার পর থেকে নির্মাণশ্রমিক সাইফুল পলাতক রয়েছেন।
নিহতের ছেলে রাজু জানান, মঙ্গলবার বিকেলে তার মাকে বাসায় না পেয়ে তাদের নতুন নির্মাণাধীন বাড়িতে খুঁজতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন সাইফুল নামের একজন শ্রমিক কাজ করছে, তাকে তার মায়ের বিষয় জানতে চাওয়া হলে সে দেখেননি বলে জানান। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য মতে তার মায়ের মরদেহ বালুর নিচে দেখতে পান।
ফেনী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা মরদেহটি উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।