• বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ন
Headline
মুজিববর্ষ বনাম নজরুলবর্ষ ইউপি ভোট: রাজশাহীতে বিএনপির ‘ঘরে ঘরে’ জামায়াতে ইসলামী একক চেয়ারম্যান প্রার্থী ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা-নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ ফেনীতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভা শেষে দুপক্ষের সংঘর্ষ, জুতা ছোড়াছুড়ি কুড়িগ্রামে বিনিয়োগের নামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ চার জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে হাজিরা খাতায় ‘আগাম স্বাক্ষর’: নারায়ণগঞ্জে ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ জনকে শোকজ গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বাতিল, রাশেদ খাঁনকে জিএস ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সব সম্পত্তি দিয়ে দিলেও শেষ জীবন হবে নিরাপদ: আসছে নতুন আইন রাজধানীতে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলি, নারীসহ গুলিবিদ্ধ ৩ একযোগে ২৭ উপসচিবকে ডিসি অফিসে বদলি ও পদায়ন

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা-নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোতেকোশি নদীতে গত ২৬ অগাস্ট আকস্মিক বন্যার পর কাদা ও পলিতে প্রায় ঢেকে যাওয়া নেপালের একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন। ছবি: দ্য কাটমান্ডু পোস্ট
ভোতেকোশি নদীতে গত ২৬ অগাস্ট আকস্মিক বন্যার পর কাদা ও পলিতে প্রায় ঢেকে যাওয়া নেপালের একটি বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন। ছবি: দ্য কাটমান্ডু পোস্ট

নেপালে ভোতেকোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভারতীয় সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে নেপালের বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ আগস্টের বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অনুমোদিত দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এগুলো হলো ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াটের চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ২৪ মেগাওয়াটের ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। বন্যার পর থেকেই দুটি প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (এনইএ) ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী দুটি প্রকল্পই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিকল্প একটি প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমতির জন্য ভারতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

সাধারণত বর্ষাকালে নেপালের নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বাড়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়ে যায়। গত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুমে দেশটি গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছে। এর ওপর নির্ভর করে নেপাল নিজেদের একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছিল। তবে এবারের বন্যায় উৎপাদন কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ), ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি বছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি করে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের সঙ্গে আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও নেপাল নীতিগতভাবে সম্মত হয়। তবে ভারতীয় সঞ্চালন লাইন ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন এখনো পাওয়া যায়নি।

কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, চিলিমে প্রকল্প থেকে ভারতের কাছে ২১ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং ত্রিশূলী প্রকল্প থেকে ১৮ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিক্রির অনুমোদন ছিল। ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্যও প্রকল্প দুটি অনুমোদিত ছিল।

বন্যায় শুধু বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রকল্প দুটিই নয়, নেপালের আরও কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পর থেকে দেশটির মোট ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে বন্যার কারণে নেপালের বিদ্যুৎ রপ্তানিও বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটি বাংলাদেশ ও ভারতে ২ হাজার ৯৩২ কোটি নেপালি রুপির বিদ্যুৎ রপ্তানি করে। একই সময়ে শুষ্ক মৌসুমে ভারত থেকে ১ হাজার ২৩ কোটি রুপির বিদ্যুৎ আমদানি করলেও নিট বিদ্যুৎ বাণিজ্যে নেপালের উদ্বৃত্ত ছিল ১ হাজার ৯০৯ কোটি রুপি।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের কাজ করছে এনইএ। পাশাপাশি সচল অন্য কোনো প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমতি পেতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

গত ২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে নদীর তীরবর্তী জনপদ, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। পরে বন্যার পানি ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।

বন্যার প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২৫০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সুত্র:দৈনিক ইত্তেফাক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা