বাসস এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ক্ষমতা গ্রহণের আড়াই মাসে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিকরা মুক্তভাবে সংবাদ প্রচার করবে। তবে এক্ষেত্রে সাংবাদিকদেরকে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, সরকার হস্তক্ষেপ না করলেও কোনো কোনো মালিকপক্ষ নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সেন্সরশীপ করে থাকেন। গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে সংবাদ মাধ্যমের উপর হস্তক্ষেপ করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অনেকেই তাদের মনের ভাব প্রকাশ করেছিলো। একসময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপরিহার্য্য হয়ে পড়ে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেহেতু দ্বায়বদ্ধতা নেই সেক্ষেত্রে তারা যা ইচ্ছা তা প্রচার করে। এক্ষেত্রে অপতথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যা গণমাধ্যমের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। এসব মোকাবেলায় সরকার, মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকসহ অংশীজনরা মিলে একটি রোড ম্যাপ তৈরি করতে হবে।
তিনি সোমবার (১১ মে) বিকালে ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে ইউনিটি কার্যালয়ে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ইউনিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আমার কাগজ সম্পাদক ফজলুল হক ভূঁইয়া রানা, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিপি মেজবাহ উদ্দিন খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া।
কামাল উদ্দিন সবুজ আরো বলেন, গণমাধ্যম কখনোই স্বাধীন ছিলোনা। ইউরোপ-আমেরিকা কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমরা গণমাধ্যমের যে হালহকিকত দেখছি তা মোটেই সুখকর নয়। উন্নত বিশ্বেও সরকার গণমাধ্যমকে নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প সাংবাদিকদেরকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, সেই তুলনায় আমাদের দেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি অনেক উন্নত।
ফেনীর এই কৃতি সন্তান বলেন, “ফেনী সাংবাদিকতার জন্য উর্বর ভূমি। বাংলাদেশের সাংবাদিকতাকে ফেনীর সাংবাদিকরা উজ্জল করেছেন। শুধু তাই নয় ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, শিল্প ও সাংস্কৃতিসহ সকল ক্ষেত্রে ফেনীর কৃতি সন্তানদের ভূমিকা উজ্জ্বল। এই ধারাবাহিকতা বর্তমান প্রজন্মকে ধরে রাখতে হবে।
বাসস এমডি বলেন, “স্বাধীন বা মুক্ত গণমাধ্যমে যদি আমরা একমত থাকতে পারতাম তাহলে আমরা অনেক কিছু করতে পারতাম। পৃথিবীর কোন দেশে শতভাগ মুক্ত গণমাধ্যম নেই। নিরপেক্ষতা বলতে আসলে কিছু নেই। কিন্তু আমরা যখন রিপোর্ট লেখবো তখন বস্তুনিষ্ঠতা যেন থাকে। আমরা যখন সম্পাদনা করবো তখন সেটা যেন দায়িত্বশীলতার সাথে করি। সাংবাদিকদের জন্য পথ কখনো মসৃণ না। সংগ্রাম ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।