• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

ফেনীতে বসছে ১২৯ হাট, প্রস্তুত ৯০ হাজার পশু

Reporter Name / ৩৬ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ফেনী জেলায় কোরবানির পশুর বাজার নিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এবার জেলায় চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ৮ হাজার গবাদিপশু। আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জেলার ৫ হাজার ৪০০-এরও বেশি খামারি এখন শেষ মুহূর্তের পশুর পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

খামারিদের আশা, এবার বাজার ভালো থাকলে তারা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবেন।

ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদুল আজহায় ফেনী জেলার ৬টি উপজেলায় গবাদিপশুর মোট চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ৫২৫টি। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় এবার ৭ হাজার ৯২৭টি পশু বেশি রয়েছে।

প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে গরুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৭১ হাজার ৫৬৯টি। এ ছাড়া ছাগল রয়েছে ১৩ হাজার ২২৯টি, মহিষ ১ হাজার ৭৩৫টি এবং ভেড়া রয়েছে ৩ হাজার ৯১৯টি।

উপজেলা ভিত্তিক তথ্যানুযায়ী, গবাদিপশুর সংখ্যায় এবার জেলায় শীর্ষে রয়েছে ছাগলনাইয়া উপজেলা। এই উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ২৪ হাজার ৩৬০টি পশু। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ফেনী সদর উপজেলায় পশুর সংখ্যা ২২ হাজার ৪১৫টি। সোনাগাজী উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৭৫টি, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ হাজার ৮৭৫টি, ফুলগাজী উপজেলায় ৮ হাজার ৪৯টি এবং পরশুরাম উপজেলায় ৮ হাজার ৩৭৮টি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১২৯টি পশুর হাট বসছে। এর মধ্যে ১৫টি স্থায়ী এবং ১১৪টি অস্থায়ী হাট।

এর মধ্যে ফেনী সদর ও পৌরসভায় বসবে ৪২টি, সোনাগাজী পৌরসভা ও উপজেলায় ২১টি, দাগনভূঞা পৌরসভা ও উপজেলায় ১৯টি, ছাগলনাইয়া পৌরসভা ও উপজেলায় ১৫টি পরশুরাম পৌরসভা ও উপজেলায় ৮টি এবং ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি পশুর হাট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, ফেনীতে এবার ঈদুল আজহার জন্য গতবারের তুলনায় গবাদি পশু বেশি রয়েছে। বাইরের দেশ থেকে পশু না এলে খামারিরা পর্যাপ্ত দাম পাবেন বলে আশা করছি। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন প্রকার তথ্য ও ওষুধপত্র দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। হাটে আগত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৩৭টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এদিকে জেলার ৫ হাজার ৪০৭টি খামারে এখন চলছে বিক্রির শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পশুর যত্নে খামারিদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার পশু পালনে খরচ অনেক বেড়েছে বলে জানিয়েছেন খামারিরা।

জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মেসার্স এম এ হাশেম এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আমজাদ হোসেন জানান, আমরা অনেক যত্নে গাবাদি পরশু লালন পালন করছি। খাদ্যের দাম বাড়ায় প্রতিটা গরুর পেছনে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। আমরা দেশীয় ঘাস, খোল, ভুসি, সয়ামিল গরুকে খাওয়াচ্ছি। তারপরও আশা করছি বাজারে ভালো দাম পাব। সরকারের কাছে অনুরোধ রইল যাতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু অনুপ্রবেশ না করে। এটি হলে আমরা খামারিরা পথে বসে যাব।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী ৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, এবারের কোরবানির জন্য অবৈধভাবে যাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কোনো পশু না আসতে পারে এ জন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাহারা ও নজরদারি ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা