• সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ পূর্বাহ্ন
Headline
১৮ রাষ্ট্রপ্রধানের ৭ জনের বিদায় পদত্যাগে জিয়া হত্যা/সেনানিবাসে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই গুলি করে হত্যা করা হয় জেনারেল মঞ্জুরকে জিয়া হত্যা /সামনে পথ বন্ধ, ধরা পড়তেই হবে এমপির আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: প্রতিবাদে দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়লেন কর্মী আদালত চলাকালে পেপারওয়েট ছুড়ে আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপিরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না: ইসি আশুগঞ্জে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৬৪ লাখ টাকা মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কায় কমল স্বর্ণের দাম জিয়া হত্যা /মঞ্জুর নিজের কাঁধ থেকে ব্যাজ খুলে ফেললেন, স্টার্ট নিল গাড়িটা আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

আশুগঞ্জে খাল পুনঃখনন শেষে সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ৬৪ লাখ টাকা

Reporter Name / ৪৫ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার একটি খাল। ছবি: ইত্তেফাক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করে অব্যয়িত প্রায় ৬৪ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ টাকা।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া। প্রশাসনের এ উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাটাখালী থেকে ভবানীপুর, আড়াইসিধা ইউনিয়নের ভবানীপুর থেকে দগরীসার এবং দগরীসার থেকে লাউয়াসার পর্যন্ত মোট সাড়ে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯১ হাজার ৯২৩ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় খাল পুনঃখননের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে প্রায় দেড় হাজার বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমাস উদ্দিন জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধের পরও প্রায় ৬৪ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকে। পরে সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে ওই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সায়েম মিঠু বলেন, সরকারি প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। ইউএনও দেখিয়ে দিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। কাজের মান বজায় রেখে অব্যয়িত অর্থ কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ ছড়া বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় ব্যয় করা হয়েছে। কাজ শেষে যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার।”

সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা