• মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন
Headline
মাঠপর্যায়ে এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনে ইসির নতুন নিয়ম এক লাফে ২০ টাকা মূল্যবৃদ্ধি, জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানো হলো : এবি পার্টি ‘গাজী নজরুল জামায়াতের কেউ নন, স্ত্রীর মৃত্যুর তদন্তের দায়িত্ব সরকারের’ ডিজেল অকটেন পেট্রোল কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লো ন্যাম ভবন থেকে এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই সনদ যেভাবে সই হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই মিলল কুবি শিক্ষকের নিখোঁজ ছেলের মরদেহ এনআইডির ভুল তথ্য সংশোধনে প্রয়োজন হতে পারে যেসব কাগজপত্র ডাকসুর এক বছরের কার্যবিবরণী প্রকাশ, ছারপোকা দমনে খরচ ৩২ লাখ টাকা

মোট ৯টি বিয়ে করেছেন মিসবাহ, নেই কাবিননামা-রেজিস্ট্রেশন, আদালতে মামলা ৫ম স্ত্রীর

Reporter Name / ৮৩ Time View
Update : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
হাবিবুর রহমান মিসবাহ © সংগৃহীত

আলোচিত চরমোনাই পন্থী ইসলামি বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর বিরুদ্ধে যৌতুকের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার পঞ্চম স্ত্রী মোসা. হুমায়রা জান্নাত যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় এ মামলা করেন। মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ৮ নম্বর আদালতে মামলাটি করা হয়। মামলাটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে বিচারাধীন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম ইবরাহিম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নালিশি অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২০ সালের ৪ মে শরিয়াহ অনুযায়ী হাবিবুর রহমান মিসবাহর সঙ্গে হুমায়রা জান্নাতের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি ‘আফরাদ মিসবাহ’ নামে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

বাদীর অভিযোগ, বিয়ের সময় মিসবাহ তার আগের চারটি বিয়ের তথ্য গোপন রাখেন। পরে হুমায়রা জানতে পারেন, তাকে ছাড়াও মিসবাহ মোট নয়টি বিয়ে করেছেন। এসব বিয়ের কোনোটি কাবিননামা বা বিবাহ নিবন্ধনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়নি।

ঘটনার পর হুমায়রা জান্নাত যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে তিনি আদালতে এসে নালিশি মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এবিএম ইবরাহিম খলিল আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের বলেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ বিরুদ্ধে আমার মক্কেল হুমায়রা জান্নাত যৌতুকের অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। বাদী হুমায়রা জান্নাতের সঙ্গে হাবিবুর রহমান মিসবাহ পরিচয় হয় তার ওয়াজ মাহফিল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের মাধ্যমে। পরে ফেসবুকে যোগাযোগের সূত্র ধরে তাদের পরিচয় বাড়ে। একপর্যায়ে হুমায়রা জান্নাতকে যাত্রাবাড়ীতে নিজের বাসায় নিয়ে যান মিসবাহ। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের আগে তাদের শারীরিক সম্পর্ক হয়। পরে তারা বিয়ে করেন এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।

আইনজীবীর দাবি, মামলার আবেদনে হাবিবুর রহমান মিসবাহর একাধিক বিয়ের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হুমায়রা জান্নাত তার পঞ্চম স্ত্রী। এরপরও তিনি আরও চারটি বিয়ে করেছেন। এ হিসেবে তার মোট নয়টি বিয়ের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাবিবুর রহমান মিসবাহ নিজেকে ইসলামি বক্তা ও ধর্মীয় জ্ঞানদাতা হিসেবে পরিচিত করেছেন। তিনি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন। তার বক্তব্য শুনে অনেক সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা তার প্রতি আকৃষ্ট হন। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্মীয় প্রচারের পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেছেন।

আইনজীবীর দাবি, হাবিবুর রহমান মিসবাহ একাধিক বিয়ের পেছনে আর্থিক বিষয়ও ভূমিকা রাখতে পারে। তার সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন, ওয়াজ মাহফিলে বক্তৃতা দিয়ে তিনি বড় অঙ্কের সম্মানী পান। বিভিন্ন জায়গায় তার নিজস্ব যোগাযোগ ও ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। এই অর্থ ব্যবহারের একটি কারণ হিসেবে তিনি একের পর এক বিয়ে এবং নারীর প্রতি দুর্বলতার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন আইনজীবী।

অ্যাডভোকেট ইবরাহিম খলিল বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে যৌতুকের মামলা করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল হক মামলাটি আমলে নিয়ে সরাসরি সমন জারি করেছেন। পরবর্তী তারিখে আসামি আদালতে হাজির হলে তার বক্তব্য জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, হাবিবুর রহমান মিসবাহ কাবিন না করেই বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সন্তানও রয়েছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা