• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
Headline
ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ গোপালগঞ্জে পলাতক অবস্থায় সাঈদীর মামলার বাদীর মৃত্যু, দাফন ঘিরে উত্তেজনা গণভোটের রায় মানলে অনেক সংকটের সমাধান হতো: শফিকুর রহমান বিরোধীদল নয় দিল্লির সঙ্গে সরকার নিজেই আঁতাত করছে: গোলাম পরওয়ার জমির মালিকানা দাবিতে প্রমাণ না থাকলে মিলবে না অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা: হাইকোর্ট স্ত্রীকে আদালতে যেতে বাধ্য করলে ক্ষতিপূরণের আদেশ দিতে পারবে আদালত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে জানতে পারবেন আগামীকাল বৃষ্টি হবে কি না: প্রধানমন্ত্রী আল্লাহর কাছে প্রিয় যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ নেক আমল তা কি কি? নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা সারের ডিলার নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের দাবি জামায়াতের

গণভোটের রায় মানলে অনেক সংকটের সমাধান হতো: শফিকুর রহমান

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

সীমান্ত দিয়ে মাদক, অস্ত্র ও অর্থ প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পদত্যাগ দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, সীমান্ত সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদক নির্মূলে ব্যর্থতার দায় সরকারের নেওয়া উচিত।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায় জামায়াতে ইসলামী। সরকার ভালো উদ্যোগ নিলে তাতে সমর্থন দেওয়া হবে। তবে ভুল ও অনিয়মের সমালোচনা করতেও পিছপা হবেন না তাঁরা। সরকারের ভুল বা অপকর্মের দায় বিরোধী দল নেবে না। একইভাবে তাঁর দলের কেউ অন্যায় বা অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হয় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে দাবি করে জামায়াত আমির বলেন, আত্মীয়করণ, দলীয়করণ ও গোষ্ঠীকরণ ব্যাপকভাবে চলছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকর। দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজরা কোনো দলের সম্পদ নন; বরং তাঁরা দলকে ডুবিয়ে দেন। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীতে অনেক দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। মাদক, অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কোনো বক্তব্য দিলে তার ভিত্তি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। তিনি কোথায় ও কখন বৈঠক করেছেন, তা পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে। এ বিষয়ে প্রমাণ উপস্থাপনের চ্যালেঞ্জও জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদের ভেতরেই সব সংকটের সমাধান করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সরকারি দল তাঁদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে। গণভোটের রায় মেনে নেওয়া হলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া এবং সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়া যেত। অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, নীতির প্রশ্নে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত, কিন্তু অপরাধ করলে ছাড় দেওয়া উচিত নয়। নিজের দলের এক সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই সংসদ সদস্যকে দল থেকে বাদ দিতে ২৪ ঘণ্টাও সময় নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে যথাসময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাঁরা জোটগতভাবে অংশ নেবেন না।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কী ঘটছে, তা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানা যায়। তবে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে গণমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সঠিক তথ্য প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন।

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার হবে। তবে বন্দিদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করা উচিত, যাতে তাঁরা ন্যায়বিচার পাচ্ছেন কি না, তা জানা যায়।

দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ বা অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকেরা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। ডা. শফিকুর রহমান সেসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর আমির মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সেক্রেটারি ইয়ামীন আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা মোখলেছুর রহমান এবং সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও অংশ নেন।

এর আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে ডা. শফিকুর রহমানকে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি শহরের শিল্পকলা একাডেমিতে ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সম্মেলন ও রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা