• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

ইরানি যুদ্ধবিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল পাকিস্তান’

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচাতে ইরানের সামরিক বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে জায়গা দেয় পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির নূর খান বিমানঘাঁটিতে নিজেদের সামরিক বিমান পার্কিংয়ের জন্য নিয়ে আসে ইরান। এছাড়া আরেক প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানেও নিজেদের কিছু বেসামরিক বিমান নিয়ে যায় ইরান। তবে আফগানিস্তানে সামরিক বিমান নেওয়া হয়েছিল কি না সেটি স্পষ্ট নয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তেহরান তাদের বেশকিছু মূল্যবান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রাওয়ালপিন্ডির খানিকটা বাইরে অবস্থিত পাকিস্তান বিমান বাহিনীর নূর খান ঘাঁটিতে সরিয়ে নেয়। এতে করে এগুলো ইসরায়েলি ও মার্কিনি হামলা থেকে রক্ষা পায় ।

পাকিস্তান যখন ইরানকে তাদের সামরিক বিমান রাখার সুযোগ দিয়েছে ঠিক একই সময় মধ্যস্থতাও চালিয়েছে। ইরান পাকিস্তানে যেসব বিমান পাঠিয়েছে তারমধ্যে দেশটির বিমানবাহিনীর আরসি-১৩০ নজরদারি বিমান এবং লকহিডের তৈরি সি-১৩০ বিমান ছিল। এটি কৌশলগত পরিবহন বিমান সি- ১৩০ হারকিউলিসের একটি সংস্করণ যা নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত হয় ।

বিষয়টির সম্বন্ধে অবগত মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিলের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার পর ইরান ওই আরসি-১৩০ বিমানসহ একাধিক বিমান পাকিস্তানের নূর খান ঘাঁটিতে পাঠায়।

সে সময় ইরানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিলেও সম্ভাব্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা থেকে বাকি সামরিক ও বিমান বাহিনীর সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবেই তেহরান আফগানিস্তানে বেসামরিক ও পাকিস্তানে সামরিক সম্পদ পাঠিয়েছিল বলে ধারণা ঐ কর্মকর্তাদের। তবে পাকিস্তান অবশ্য পুরো বিষয়টি অস্বীকার করেছে। দেশটির এক কর্মকর্তা জানান, নূর খান বিমানঘাঁটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। যদি সেখানে অনেক বেশি বিমান পার্ক করা থাকত তাহলে এগুলো সবার নজরে আসত ।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তান ইরানি যুদ্ধবিমানকে পার্কিংয়ের অনুমতি দিয়েছিল, এ খবর ওয়াশিংটনে ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি করেছে। অনেক মার্কিন আইনপ্রণেতাই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেওয়া ইসলামাবাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

রিপাবলিকান সেনেটর ‘যুদ্ধবাজ’ খ্যাত লিন্ডসে গ্রাহাম ইরান সঙ্কটে পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করারও দাবি জানিয়েছেন। তবে পাকিস্তানে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, নূর খান ঘাঁটি জনবহুল এক এলাকায় অবস্থিত। সেখানে ইরানি বিমান নামলে তা লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। নূর খান ঘাঁটিটি শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত, যদি অনেকগুলো বিমানের একটি বহর সেখানে পার্ক করা থাকতো, তাকে কোনোভাবেই লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা যেত না, বলে জানান তিনি।

তবে আফগানিস্তান বলছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ চলার সময় ইরানের মাহান এয়ারের একটি বেসরকারি বিমান কিছু সময় কাবুল বিমানবন্দরে পার্ক করা ছিল। আফগান বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, যুদ্ধের কিছুক্ষণ আগে ইরানি ওই বেসামরিক বিমানটি কাবুলে অবতরণ করেছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা