যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে মহান আল্লাহ পাক তার জন্য জুমার মাঝের সময়টা নূর দ্বারা ভরিয়ে দেয়।’ (বায়হাকী শরীফ)
জুমার দিন বেশি বেশি দোয়া পড়া উত্তম। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন এমন একটা মুহুর্ত আছে যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট কিছু চায় তখন আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করেন’ (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)।
অন্যদিনের তুলনায় জুমার দিনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর বেশি বেশি দরুদ শরীফ পাঠ করুন। বিশেষ করে দোয়া ও দরুদ শরীফ আসরের পরবর্তী সময়টাতে কবুলের নিশ্চয়তা বেশী থাকে।
দরুদে ইব্রাহিমের আরবি, অর্থ, উচ্চারণ-
আরবি:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌاللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيد
উচ্চারণ:
‘আল্লাহুম্মা সাল্লেআ’লা মোহাম্মদাও ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা সাল্লাইতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মোহাম্মাদেওঁ ও আ’লা আলি মোহাম্মদ, কামা বারকতা আ’লা ইব্রাহিমা ও আ’লা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম্মাজিদ।’
অর্থ:
‘হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর বংশধরদের ওপর এই রূপ রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইব্রাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়।’
জুমার দিনে হাতের নখ কাটা, উত্তম রূপে গোসল করা, পরিষ্কার জামা-কাপড় পরিধান করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, আগে আগে মসজিদের যাওয়ার চেষ্টা করা, ধুমপান না করা, সুন্দর ভাবে দাঁত মেসওয়াক বা ব্রাশ করা।
মসজিদে প্রবেশ করে দুরাকাত তাহইয়াতুল মসজিদের নামাজ আদায় করা, ইমাম সাহেবের খুৎবা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা উত্তম।
প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি খুৎবার সময় অবহেলা করে সময় নষ্ট করে তার নামাজ নষ্ট হয়ে যায়’। (মুসলিম শরীফ)
ইমাম সাহেবের সঙ্গে দুই রাকাত জুমার ফরজ নামাজ আদায় করার পর প্রতিবেশীদের খোঁজ-খবর নেয়া, গরীব দু:খীদের সুখ-দুখের খবর নেয়া এবং কথাবার্তা বলা উত্তম।
মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করি, আমরা যেন যথাযথ ভাবে পবিত্র জুমা দিবসের গুরুত্ব উপলদ্ধি করে এ দিনের আদব ও আমলগুলো সঠিক ভাবে করতে পারি। আল্লাহুম্মা আমিন।