ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি বা তফসিল এখনও ঘোষণা করেনি নির্বাচন কমিশন। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষা না করেই রাজশাহীর মাঠপর্যায়ে প্রচারে নেমে পড়েছেন বিএনপি নেতারা।
এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন না হলেও জেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে দলটির একাধিক নেতার প্রার্থিতা নিয়ে শুরু হয়েছে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা। এরই মধ্যে দলীয় নেতারা জেলা পর্যায়ে একক প্রার্থী দেওয়ার জন্য সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজশাহী জেলায় মোট ৭২টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে পবা উপজেলায় আটটি, গোদাগাড়ীতে নয়টি, তানোরে সাতটি, মোহনপুরে ছয়টি, বাগমারায় ১৬টি, দুর্গাপুরে সাতটি, পুঠিয়ায় ছয়টি, চারঘাটে ছয়টি এবং বাঘায় সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক ইউনিয়নে একই পদে বিএনপির তিন থেকে চারজন- এমনকি কোথাও পাঁচ-ছয়জন নেতাও দলীয় প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ফলে নির্বাচনের আগে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল এড়ানো বিএনপির জন্য বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নে ইউপি চেয়ারম্যান পদে বিএনপির অন্তত ছয়জন নেতা ও সমর্থক আগ্রহী। এদের মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুর্তুজা মৃধা বকুল, বিএনপি নেতা জাকিরুল ইসলাম জাকির, এনামুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য হাবিবুন নবী দেওয়ান শাকিল ও জিয়া মঞ্চের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক ফায়সাল রানা। এই ইউনিয়নের তিনবারের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান রঞ্জু এবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে লড়তে প্রচার চালাচ্ছেন।
একই উপজেলার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নেও প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম খোকন, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বকুল সরদার ও সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুল লতিফ মুকুলসহ একাধিক নেতা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক নির্দেশনা না থাকায় প্রার্থীরা যার যার মত গণসংযোগ করছেন।
গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম খোকন বলেন, “উপজেলা নেতৃত্ব দুই ভাগে বিভক্ত থাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণে সমন্বয় না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।”
তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “বিএনপি বড় দল হওয়ায় একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে বসে সমন্বয়ের মাধ্যমে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।”
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী এরই মধ্যে তাদের প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করে মাঠে এককভাবে কাজ শুরু করেছে।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, “সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌরসভা ও ইউপির চেয়ারম্যান পদে আমাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা একক প্রার্থীকে সামনে রেখেই মাঠে কাজ করছি।”
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যে বিগত সরকারের সঙ্গে যুক্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে নামার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ফলে দলীয় কোন্দল সামলানোর পাশাপাশি বিরোধী পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও সামলাতে হবে দলকে।
এদিকে ২৭ অগাস্ট রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা দ্রুত শেষ করা সম্ভব হলে নভেম্বরের শেষ দিকে ভোট শুরু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নইলে ডিসেম্বরের দিকে নির্বাচন শুরু হতে পারে।