• বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩১ অপরাহ্ন

মুহুরীর চর /৭৯ বছরেও মীমাংসা হয়নি সীমান্তের জমির হিসাব

Reporter Name / ৮ Time View
Update : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খতিয়ানে জমি আছে, মালিকানার কাগজ আছে, অথচ নিজের জমিতে যাওয়ার অধিকার নেই। ফেনীর পরশুরামের মুহুরীর চরে এমন বাস্তবতার মধ্যেই বছরের পর বছর কাটাচ্ছেন শতাধিক বাংলাদেশি কৃষক। সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা নিয়ে ১৯৪৭ সালের পর থেকে চলে আসছে বিরোধ। এর মধ্যে হয়েছে ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব স্থলসীমান্ত চুক্তি, ২০১১ সালের প্রটোকল, দুই দেশের একাধিক যৌথ জরিপ এবং সীমারেখা চিহ্নিত করতে বসানো হয়েছে ৪৪টি অস্থায়ী কাঠের খুঁটি। এখনো হয়নি স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ। ফলে কাগজে জমির মালিকানা থাকলেও মাঠে ভোগদখল নেই অনেক বাংলাদেশি কৃষকের। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীর গতিপথ, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও রয়েছে জটিল সমীকরণ।

সরকারি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ-ত্রিপুরা সীমান্তের মোট ৮৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে পরশুরামের মুহুরী নদী এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ অমীমাংসিত ছিল। ২০১৩-১৪ মাঠ মৌসুমে দুই দেশের যৌথ জরিপের মাধ্যমে ওই এলাকায় ৪৪টি কাঠের খুঁটি স্থাপন করে সীমারেখা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু স্থায়ী পিলার নির্মাণের জন্য দুই দেশের সরকারের সম্মতি মেলেনি।

বিভিন্ন সরকারি ও গণমাধ্যমে প্রকাশি তথ্যে মুহুরীর চরের আয়তন ৯২ দশমিক ১৪ একর বলা হয়েছে। ২০১১ সালের প্রটোকল সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই ৯২ দশমিক ১৪ একরের মধ্যে বাংলাদেশের অংশ ৭১ দশমিক ৯৪ একর এবং ভারতের অংশ ২০ দশমিক ২০ একর। ২০১৪ সালের ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি দুই দেশের জরিপ বিভাগ সেখানে যৌথ জরিপও চালায়। তবে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, ৯২ দশমিক ১৪ একরের মধ্যে প্রায় ৩১ দশমিক ১৮ একর বাংলাদেশের দখলে, ৮ একর ভারতের দখলে এবং বাকি ৫২ দশমিক ৯৬ একর ভূমি অমীমাংসিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সীমান্ত সমস্যার সমাধানে পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল স্থলসীমান্ত চুক্তি। ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি দীর্ঘ চার দশক পর ভারতে ২০১৫ সালে স্থলসীমান্ত বিল হিসেবে ১০০তম সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে পাস হলেও মুহুরী চরের ক্ষেত্রে পাকা পিলার বসানোর বিষয়টি আর এগোয়নি। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থায়ী পিলারের জোরালো প্রস্তাব করা সত্ত্বেও ওপার থেকে কোনো সবুজ সংকেত মেলেনি। ফলে চুক্তির পরও মুহুরীর চর পুরোপুরি বিরোধমুক্ত হয়নি।

২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ওই সময়ের প্রতিবেদনে ৯২ দশমিক ১৪ একরের মধ্যে বাংলাদেশকে ৭১ দশমিক ৯৪ একর এবং ভারতকে ২০ দশমিক ২০ একর দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সময় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অমীমাংসিত এলাকাগুলো জরিপের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

সরকারি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ জরিপ মৌসুমে মুহুরী নদী এলাকার যৌথ জরিপ করে একটি ইনডেক্স ম্যাপ তৈরি এবং উভয় দেশের কারিগরি পর্যায়ে তা স্বাক্ষরিত হয়। ২০১১ সালের মধ্যেই সমস্যাটি সমাধানের দিকে যাওয়ার একটি প্রশাসনিক পথ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা মাঠপর্যায়ে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

২০১৩-১৪ মাঠ মৌসুমে বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ অনুরোধে অমীমাংসিত মুহুরী চর এলাকায় জরিপ চালানো হয়। ২০১৪ সালের ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি দুই দেশের জরিপ বিভাগ বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় মুহুরীর চরে যৌথ জরিপ পরিচালনা করে। এ সময় মোট ৪৪টি কাঠের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। দুই দেশের সরকারের সম্মতি পেলে ওই জায়গায় পাকা পিলার নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু অস্থায়ী পিলারের জায়গায় স্থায়ী পিলার নির্মাণের বিষয়টি আর এগোয়নি।

সরকারি তথ্য বলছে, ৪৪টি কাঠের খুঁটি বসিয়ে সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু কাঠ বা বাঁশের খুঁটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত চিহ্ন নয়। এরই মধ্যে অধিকাংশ খুঁটি নষ্ট হয়ে গেছে। খুঁটিতে লাগানো জরিপ নম্বর লেখা লোহার পাতও মরিচা ধরে বিবর্ণ হয়ে গেছে। ফলে স্থায়ী কংক্রিট পিলার না থাকলে সীমারেখার দৃশ্যমানতা ও মাঠপর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সূত্র আরও জানায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যৌথ জরিপ দলের স্থাপন করা অস্থায়ী পিলারের স্থলে স্থায়ী পিলার স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভারতের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী মুহুরীর চর পরিদর্শন করেন। তিনি বলেছিলেন, ভারতের সংসদে অনুমোদনের পর পাকা সীমান্ত পিলার নির্মাণ করা হলে বিরোধের নিষ্পত্তি হতে পারে।

এর আগে ২০১৪ সালের জরিপের পর বাংলাদেশ ৬০-৭০ একর জমি ফিরে পেয়েছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশিরা সেখানে চাষাবাদ করতে পারেননি।

মুহুরীর চর নিয়ে শুধু বাংলাদেশের স্থানীয় অভিযোগ নয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যায়েও আপত্তির তথ্য রয়েছে। ২০১৪ সালের যৌথ জরিপের পর ভারত সরকারের সম্মতি থাকলেও আপত্তি তোলে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার। ২০১৭ সালে ত্রিপুরার তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দাবি তোলে যৌথ জরিপে রাজ্য প্রশাসন ও বিলোনিয়া মহকুমা কর্তৃপক্ষকে বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের এই সমন্বয়হীনতার কারণে ভারত পাকা আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার স্থাপনে অপারগতা প্রকাশ করে আসছে-এমন অভিযোগ তুলে নতুন করে জরিপের দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশের পক্ষে জানানো হয়, যৌথ জরিপে নির্ধারিত সীমারেখা অনুযায়ী বাংলাদেশ যে জমি পাওয়ার কথা, সেটি বাস্তবে হস্তান্তর না হওয়ায় সমস্যাটি ঝুলে আছে।

মুহুরীর চর বিরোধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী স্থানীয় জমির মালিকরা। তাদের দাবি, নিজেদের নামে জমির কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু সীমান্তের কারণে তারা নিজেদের জমিতে যেতে পারেন না। অর্থাৎ জমির মালিকানা আছে কাগজে, কিন্তু ভোগদখল নেই মাঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা দাউদুল ইসলাম ফকির বলেন, সিএস ও বিএস খতিয়ান থাকা সত্ত্বেও আমরা জমির মালিক হয়েও জমিতে যেতে পারছি না। ভারতের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে সেখানে দখলে যেতে পারছি না। তিনি বলেন, ১৯৮৯ সালে নুরুল আলম নামে এক বাংলাদেশি কৃষক নিজের জমিতে ঘাস কাটতে গেলে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। এরপর থেকে মুহুরীর চরের জমিতে বাংলাদেশি কৃষকদের যাতায়াত ও চাষাবাদ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

সীমান্তের এই চর একসময় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সংঘাতের ক্ষেত্রও ছিল। বিজিবির তথ্যে জানা গেছে, ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৯ সালের ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৫৮ দিন মুহুরীর চরকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছিল।

১৯৯৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে বাউর পাথর গ্রামের বেয়াধন বিবি নামে একজন বাংলাদেশি নিহত হন। ১৯৮৯ সালে নিজ কালিকাপুরে মুহুরীর চরে নিজের জমিতে ঘাস কাটার সময় নুরুল আলম নামে আরও এক বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। মুহুরীর চরে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নাগরিক আহত ও আটকের ঘটনাও ঘটেছে।

৪৪ খুঁটি বসেও স্থায়ী হয়নি সীমারেখা

দুই দেশের যৌথ জরিপে মুহুরীর চরে সীমারেখা পুনর্নির্ধারণ করে বসানো হয়েছিল ৪৪টি অস্থায়ী কাঠের খুঁটি। কিন্তু স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণের উদ্যোগ আর বাস্তবায়িত হয়নি। এরই মধ্যে অধিকাংশ কাঠের খুঁটি নষ্ট হয়ে গেছে, খুঁটিতে লাগানো জরিপ নম্বর লেখা লোহার পাতও মরিচা ধরে বিবর্ণ হয়ে গেছে।

সরকারি ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ মাঠ মৌসুমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যৌথ অনুরোধে অমীমাংসিত মুহুরী চর এলাকায় জরিপ চালিয়ে ৪৪টি কাঠের খুঁটি স্থাপন করা হয়। ২০১৪ সালের ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি দুই দেশের জরিপ বিভাগ বিজিবি ও বিএসএফের সহযোগিতায় যৌথ জরিপ পরিচালনা করে। তখন পরিকল্পনা ছিল, দুই দেশের সরকারের সম্মতি পাওয়া গেলে এসব অস্থায়ী খুঁটির জায়গায় পাকা সীমান্ত পিলার নির্মাণ করা হবে। কিন্তু সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্থায়ী পিলার নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভারতের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

২০১৬ সালে দুই দেশের জেপিডব্লিউডির যৌথ উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে সীমানা নির্ধারণ, জরিপ ও সীমান্ত চিহ্ন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করা হয় বলেও জানান ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সহকারী জরিপ কর্মকর্তা পারভেজ মিয়া। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। ফলে ৪৪টি অস্থায়ী খুঁটি বসানোর পরও মুহুরীর চরের প্রায় দুই কিলোমিটার সীমান্তে স্থায়ী ও দৃশ্যমান আন্তর্জাতিক সীমান্ত চিহ্নের অপেক্ষা শেষ হয়নি।

কাগজে জমির মালিক,তবুও চাষ করতে পারেন না

মুহুরীর চরের বিরোধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জমির মালিকরা। তাদের দাবি, সিএস ও বিএস খতিয়ানসহ জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে। কিন্তু সীমান্তের কারণে নিজেদের জমিতে যেতে না পারায় বছরের পর বছর চাষাবাদ বন্ধ। ফলে কাগজে জমির মালিকানা থাকলেও বাস্তবে ভোগদখল নেই।

উত্তর কাউতলী গ্রামের ফকির নুর মোস্তফাদের পরিবারের প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে মুহুরীর চরে। বিএসএফের বাধার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তারা এসব জমিতে যেতে পারছেন না। তিনি বলেন, আমাদের ভাইদের বেশিরভাগ জমি মুহুরীর চরের মধ্যে। ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে এসব জমিতে চাষাবাদ করতে পারছি না।

নিজ কালিকাপুর গ্রামের মহিউদ্দিন ফোরকানের পৈতৃক প্রায় দুই একর জমিও রয়েছে মুহুরীর চরে। জমির খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলেও ভারতের আধিপত্যের কারণে তিনি সেখানে যেতে বা জমি ভোগদখল করতে পারছেন না। তিনি বেেলন, সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি আমাদের জমিতে নিরাপদে যাতায়াত ও চাষাবাদের অধিকার নিশ্চিতে সরকারকে ভূমিকা রাখার দাবি জানাই।

স্থানীয়রা বলছেন, ১৯৮৯ সালে নুরুল আলম নামে এক বাংলাদেশি কৃষক নিজের জমিতে ঘাস কাটতে গেলে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। ১৯৯৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে বাউরপাথর গ্রামের বেয়াধন বিবি নিহত হন। বিভিন্ন সময়ে মুহুরীর চরে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশি নাগরিক আহত ও আটকের ঘটনাও ঘটেছে।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ থেকে ১৯৯৯ সালের ২২ আগস্ট পর্যন্ত ৫৮ দিন মুহুরীর চরকে কেন্দ্র করে তৎকালীন বিডিআর ও বিএসএফের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়েছিল।

চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি

মুহুরীর চরের সীমান্ত বিরোধের প্রভাব শুধু জমির মালিকানা ও কৃষকের ভোগদখলে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অপরাধের ঝুঁকিও। বিরোধপূর্ণ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী সীমান্ত পিলার না থাকায় সুনির্দিষ্ট সীমারেখা দৃশ্যমানভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অনিশ্চয়তার সুযোগে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থায়ী সীমান্ত চিহ্ন না থাকায় ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ চিহ্নিত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে মাদক চোরাচালানসহ সীমান্ত অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা ।

বিরোধপূর্ণ এই এলাকার সঙ্গে বিজিবির নজরদারি, বিএসএফের অবস্থান, স্থানীয় প্রশাসনের আইন প্রয়োগ এবং সীমান্ত অপরাধ দমনের বিষয়ও সরাসরি জড়িত। সীমারেখা স্পষ্ট না থাকায় মাঠপর্যায়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

২০১৩-১৪ মাঠ মৌসুমে দুই দেশের যৌথ জরিপের পর ৪৪টি অস্থায়ী কাঠের খুঁটি বসানো হলেও সেগুলো স্থায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্ত চিহ্ন নয়। এরই মধ্যে অধিকাংশ খুঁটি নষ্ট হয়ে গেছে এবং জরিপ নম্বরের লোহার পাতগুলোও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি এবং কংক্রিট সীমান্ত পিলার নির্মাণ হলে একদিকে জমির মালিকানা ও ভোগদখলের বিষয়টি স্পষ্ট হবে, অন্যদিকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অপরাধ দমনও আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জমি ফেরতের আশা

আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীর পরশুরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন মুহুরীর চরের জমি হারানো বাংলাদেশি কৃষকেরা। সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পাওয়া প্রায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে মুহুরী-কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধপূর্ণ মুহুরীর চরের জমির মালিকানা ও দখল সমস্যার সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তারা।

মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর, উত্তর কাউতলী ও ফকিরের খিল গ্রামের মো. ইউনুছ, আবদুল মালেক, ফকির নুরনবীসহ শতাধিক কৃষকের জমি মুহুরীর চরে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমিগুলোতে চাষাবাদ করতে না পারায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাদের দাবি, বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কে মুহুরী সেতু নির্মাণ এবং মুহুরীর চরের বাংলাদেশি কৃষকদের জমি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধার কারণে বছরের পর বছর তারা নিজেদের জমিতে যেতে ও চাষাবাদ করতে পারছেন না। তাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর পরশুরাম সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের এ সীমান্ত ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একদিকে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি ফিরবে, অন্যদিকে নিজেদের জমিতে চাষাবাদের সুযোগ পেয়ে জীবিকা ফিরে পাবেন শতাধিক কৃষক।

নিজ কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর মজুমদার বলেন, মুহুরীর চরে শতাধিক বাংলাদেশি কৃষকের জমি রয়েছে। একসময় সেখানে অনেকের ভিটেমাটিও ছিল। এখন সেগুলো ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৪৭ সাল থেকে চরের জমি নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি কৃষকদের জমিগুলো উদ্ধার করে চাষাবাদের আওতায় আনা গেলে অনেকে নতুন করে জীবিকা ফিরে পাবেন। অনেকের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে। প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টির সমাধান করলে কৃষকরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা