• শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:১৮ অপরাহ্ন

অফ-পিক সিজনে কম খরচে থাইল্যান্ড ভ্রমণ

ফিচার ডেস্ক / ২ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

থাইল্যান্ড মানেই কি শুধু সমুদ্রসৈকত আর উদ্দাম রাত? অনেকের কাছে এর উত্তর হবে—‘না’। জনপ্রিয় ট্রাভেল পোর্টাল ট্রিপ অ্যাডভাইজরের মতে, থাইল্যান্ডের আসল মাধুর্য লুকিয়ে আছে সেখানকার স্থানীয় জনজীবন, নদীপথ আর খাদ্যের স্বাদে। বিশেষ করে জুন থেকে অক্টোবর মাসে থাইল্যান্ডের ‘অফ-পিক সিজন’। সময়টা বর্ষাকাল। তাই এ সময়ে সেখানে সৌন্দর্য ধরা দেয় ভিন্ন এক রূপে। বর্ষায় পাহাড় আর জঙ্গলগুলো সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে। এ সময় ভিড় এড়িয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে থাইল্যান্ড ভ্রমণের এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা বাড়লেও, এই সময় হোটেল আর ফ্লাইটের ভাড়ায় আকর্ষণীয় ছাড় পাওয়া যায়। আপনি যদি বর্ষার সতেজ প্রকৃতি ভালোবাসেন এবং কিছুটা কম খরচে রাজকীয় আতিথেয়তা উপভোগ করতে চান, তাহলে এই অফ-পিক সিজনে থাইল্যান্ডের টিকিট কেটে ফেলতে পারেন। পিক সিজনের চেয়ে বরং বেশি কিছুর দেখা মিলবে এই সময়।

রুপালি নদীপথে ঐতিহ্যের সন্ধান

ব্যাংককের ঘিঞ্জি এলাকা ছেড়ে একটু নিভৃতে সময় কাটাতে চাইলে যেতে পারেন ব্যাংককের ক্যানেল ট্যুরে। সেখানে দুই ঘণ্টার লং-টেইল নৌকাভ্রমণ হতে পারে সেরা অভিজ্ঞতা। থনপুরি ক্যানেল দিয়ে ভ্রমণের সময় চোখে পড়বে নদীর ধারের স্থানীয় জীবন, ছোট-বড় মন্দির এবং নদীকেন্দ্রিক ঘরবাড়ি। এটি ব্যাংককের আদি রূপকে খুব কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ। পথে যাওয়ার সময় ঐতিহ্যবাহী থাই কফির স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

স্বাদ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

রান্না যদি আপনার শখ হয়, তাহলে চিয়াং মাইয়ে ৬ ঘণ্টার একটি কুকিং সেশন আপনার জন্য হবে জুতসই। এখানে আপনি শিখতে পারবেন ১০টির বেশি স্থানীয় রেসিপি। সকালের সেশন বেছে নিলে স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখার সুযোগও পাওয়া যাবে। বাজার থেকে টাটকা উপকরণ চিনে নেওয়ার পর যখন আপনি ধাপে ধাপে নিজের হাতে ডিশটি তৈরি করবেন, তখন সেটি কেবল রান্না থাকবে না, হয়ে উঠবে এক সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।

মধ্যরাতের টুকটুক ফুড ট্যুর

থাইল্যান্ড যে কখনো ঘুমায় না, সেটির প্রমাণ মিলবে ব্যাংককের রাতজাগা খাবারের দোকানগুলোতে গেলে। টুকটুকে চড়ে মাঝরাতে স্ট্রিট ফুডের খোঁজে বেরিয়ে পড়া এক দারুণ রোমাঞ্চ। রাতে ঘুরে ঘুরে আলোকোজ্জ্বল মন্দির, স্থানীয় বাজার আর ঐতিহাসিক স্থানগুলোর রূপ দিনের চেয়ে আলাদা আর মোহনীয় মনে হয়।

খাবারের রঙে শহর চেনা

ফুকেট মানেই যে শুধু সমুদ্রসৈকত নয়, সেটি বোঝা যায় এখানকার স্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের স্বাদে। ফুকেটের সংস্কৃতি আর খাদ্যাভ্যাস চেনার জন্য ১৫টির বেশি আইটেম চাখার সুযোগসহ ফুড ট্যুরে আপনি অংশ নিতে পারেন। এটি ফুকেটের আড়ালে থাকা সত্যিকারের পরিচয় আপনার সামনে তুলে ধরবে।

ব্যাংককের নিজস্ব রুট

আপনি যদি ধরাবাঁধা ছকে ঘুরতে পছন্দ না করেন, তাহলে একজন ব্যক্তিগত গাইডের সাহায্য নিতে পারেন। আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী মন্দির দর্শন, ফটোগ্রাফি

কিংবা স্থানীয় বাজারে সময় কাটানোর স্বাধীনতা এখানে থাকবে। কোনো নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ না করে নিজের মতো করে দিনটি সাজিয়ে নেওয়াই হবে এই ভ্রমণের মূল আকর্ষণ।

আরও কিছু ‘বাকেট লিস্ট

ক্রাবির টাইগার কেভ টেম্পল: ১ হাজার ২৬০টি সিঁড়ি ভেঙে পাহাড়ের চূড়ায় উঠলে পাবেন সোনালি বুদ্ধের দর্শন আর সবুজে ঘেরা পাহাড়ের প্যানোরামিক ভিউ। তবে এখানে বানরদের থেকে আপনাকে সাবধান থাকতে হবে।
ফ্লোটিং মার্কেট: নৌকায় চড়ে ভাসমান বাজার ঘুরে দেখা এবং ‘ম্যাংগো স্টিকি রাইস’ বা ‘কোকোনাট প্যানকেক’ চাখা একটি আজীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।
মুয়ে থাই: ব্যাংককের বিখ্যাত রাজাদামনার্ন স্টেডিয়ামে সরাসরি থাই বক্সিং দেখা আপনার ভ্রমণে ভিন্নমাত্রা যোগ করবে।

ফং না বে: চুনাপাথরের গুহা দিয়ে ক্যানো চালানো, সূর্যাস্তের পর সমুদ্রের নীল উজ্জ্বল বায়োলুমিনেসেন্ট প্লাঙ্কটন দেখা এক জাদুকরি মুহূর্ত তৈরি করে।

সূত্র: এন ভোলস, গেট ইওর গাইড


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা