• বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন

সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন এক বছরের মধ্যে সম্পন্নের পরিকল্পনায় ইসি

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের লোগো। ফাইল ছবি

ধাপে ধাপে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এখন আমাদের টপ প্রায়োরিটি হলো স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আমরা এ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখনো প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে আমাদের লক্ষ্য এক বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সব নির্বাচন সম্পন্ন করা।

তিনি জানান, নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নীতিমালা সংশোধন, বাজেট বরাদ্দ, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং মৌসুমি বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ৫ মে জেলা প্রশাসক সম্মেলনে বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে সাধারণত ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনসহ সব স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে শুরু হতে পারে এবং কোন ধাপে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা এখন সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সার্বিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছি। সেটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বলতে পারব কোন নির্বাচন কবে, কোন তারিখে এবং কোন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো নির্ধারণ হয়নি। কমিশন সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান আইন, বিধি ও নীতিমালা পর্যালোচনার কাজ চলছে। নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু আইনি সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এই নির্বাচনের জন্য আমাদের আইন-কানুন পরিবর্তন করতে হবে। বিধি-নীতিমালারও পরিবর্তন প্রয়োজন। এসব করতে সময় লাগবে।

আইন ও বিধিমালা সংশোধনে সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, কমবেশি তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে জুন মাসের জাতীয় বাজেট, পরবর্তী বর্ষা মৌসুম এবং মাঠ প্রশাসনের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হিসেবে রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও জাতীয় নির্বাচনের মতো গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন যে স্ট্যান্ডার্ডে হয়েছে, সেই স্ট্যান্ডার্ডের নিচে নামার কোনো সুযোগ নেই। আমরা চাই ভবিষ্যতেও ভালো নির্বাচন হোক এবং জনগণের আস্থা বজায় থাকুক।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এবার কোনো প্রতীক থাকবে না, রাজনৈতিক পরিচয়ও থাকবে না। আমি মনে করি, দলীয় সরকার থাকলেও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে, সেটি ধরে রাখতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তার ভাষায়, আমাদের দেশ বিশ্বের মধ্যে যেভাবে সুনাম অর্জন করছে, সেই সুনাম নষ্ট হতে দিতে পারি না। রাজনৈতিক দলগুলোও ভালো নির্বাচন চায়, সরকারও চায়। নির্বাচন কমিশনও ভালো নির্বাচনের জন্য যত ধরনের পদ্ধতি রয়েছে, সব পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করবে।

সূত্র: বাসস


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা