• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
Headline
আত্মগোপনেই মারা গেলেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনীতে অধিকার’র ৩২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মতবিনিময় সভা ৪৭ বছর পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’ পরশুরামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৯ দোকান পুডে ছাই-ক্ষতি প্রায় ২ কোটি টাকা আশুলিয়ার ঝুট গোডাউনে আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে বাসাবাড়িতে ৭০০ রিকশার মালিকানা নিয়ে জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করবে বিএনপি; ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুত রাখবে বিকল্প প্রার্থী ডিমের উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নেই খামারির-বিশ্ব ডিম দিবস আজ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন ‘জমি লিখে না দিলে কবরও হবে না’—বৃদ্ধকে কৃষক দল নেতার হুমকির অভিযোগ

দলিলে লেখা এসব শব্দের অর্থ জেনে রাখুন, নাহলে পড়তে পারেন আইনি জটিলতায়

Reporter Name / ১৮০ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

যেকোনো দলিল লিখতে হয় আইনে বলে দেওয়া নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে। বিশেষ করে সাফকবলা, হেবা বা দানপত্র দলিল, বায়না দলিল, আমমোক্তার দলিলসহ অন্যান্য জমিজমাসংক্রান্ত দলিলে ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন ব্যতিক্রমী শব্দ ও সংকেত। এসব শব্দ সচরাচর অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয় না। দলিল করার সময় কিংবা দলিল তল্লাশি বা পরীক্ষা করে দেখার সময় এসব শব্দের অর্থ ভালোভাবে না বুঝলে হতে পারে নানা জটিলতা, পড়তে পারেন বিপদে। তাই জেনে নিন দলিলে ব্যবহৃত কিছু শব্দের আসল অর্থ।

১. গং
অর্থ: অন্যান্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। একজনের নামের সঙ্গে গং থাকলে বোঝায় তাঁর সঙ্গে আরও লোক আছে।

২. খং
অর্থ: খতিয়ান। জমির বিবরণ, দাগ নম্বর, অংশসহ সরকারি জরিপের একটি দলিল। বিভিন্ন দলিলে খতিয়ানের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে খং লেখা হয়।

৩. নিং
অর্থ: নিরক্ষর। যে ব্যক্তি লেখাপড়া জানেন না, তাঁর পক্ষে দলিলে অন্য কেউ স্বাক্ষর দিলে প্রথমে নিরক্ষর ব্যক্তির নামের বাঁ পাশে বা সামনে লেখা হয় নিং।

৪. বং
অর্থ: বাহক। যিনি নিরক্ষর ব্যক্তির নাম লিখে সাক্ষর দেন, তাঁর নামের সামনে লেখা থাকে বং।

৫. সাং
অর্থ: সাকিন বা গ্রাম। বাসস্থানের ঠিকানা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

৬. জং
অর্থ: স্বামী। দলিলে কোনো বিবাহিত নারীর স্বামীর নামের সামনে লেখা হয় জং।

৭. মং
অর্থ: মোট। কোনো মোট হিসাব বা পরিমাণের সংক্ষিপ্ত রূপ এটি। অনেক দলিলে ‘মবলক’ শব্দটিও ব্যবহার করা হয় মোট পরিমাণ বোঝাতে।

৮. এওয়াজ
অর্থ: বিনিময়। সমমূল্যের জমি বা সম্পদের বিনিময়কে বলা হয় এওয়াজ।

৯. সিট
অর্থ: মানচিত্রের অংশ।

১০. পিং
অর্থ: পিতা। দলিলে কোনো ব্যক্তির পিতার নামের আগে লেখা হয়।

১১. ইয়াদিকৃত
অর্থ: পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে শুরু। শব্দটি লেখা হতো পুরোনো দলিলগুলোতে।

১২. পত্র মিদং
অর্থ: পত্রের মাধ্যমে। চিঠি দিয়ে জানানো বা অবগত করা হয়েছে, এ অর্থে ব্যবহার করা হয়।

১৩. বিং
অর্থ: বিস্তারিত। কোনো কিছু বিস্তারিত বোঝাতে ব্যবহার করা হয় বিং।

১৪. দং
অর্থ: দখলকারী। কোনো জমি যাঁর দখলে আছে, তাঁর নামের পাশে লেখা হয় দং।

১৫. হাল দাগ
অর্থ: বর্তমানে প্রচলিত দাগ নম্বর।

১৬. সাবেক দাগ
অর্থ: পূর্বের বা আগের দাগ নম্বর।

১৭. চালা
অর্থ: একটু উঁচু জমি, যেখানে সহজে চাষবাস করা যায়।

১৮. নাল
অর্থ: যে জমিতে চাষবাস করা যায় বা চাষের উপযুক্ত।

১৯. বাইদ
অর্থ: বৃষ্টির পানি জমে, এমন নিচু ও জলাভূমি প্রকৃতির জমি।

২০. কোর্ফা বা কোরফা
অর্থ: জমির মালিকানা স্বত্ব, যা প্রজা তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা রাজার কাছ থেকে নিয়ে চাষ করেন।

২১. ছাহাম
অর্থ: জমিজমার অংশ বা ভাগ। কোনো জমিতে কে কত অংশ জমি পেলেন বা পাবেন, বিশেষ করে শরিকদের মধ্যে জমিজমার প্রাপ্য অংশ বোঝাতে ব্যবহার করা হয় ছাহাম।

২২. খাসজমি
অর্থ: সরকারি মালিকানাধীন জমি।

২৩. পতিত জমি
অর্থ: যে জমিতে চাষবাস করা হতো, কিন্তু জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য সাময়িকভাবে চাষাবাদ হচ্ছে না।

২৪. চাকরান
অর্থ: জমিদারেরা চাকরদের বেতনের বদলে জমিতে যে ভোগদখলের সুবিধা দিতেন, তাকে বলে চাকরান।

২৫. ছুট বা ছুটা দাগ
অর্থ: জমির নকশায় ভূমির দাগ নম্বর দেওয়ার সময় ভুলে কোনো সংখ্যা বাদ পড়ে গেলে বাদ পড়া নম্বরটি হচ্ছে ছুট বা ছুটা দাগ।

২৬. বাটা
অর্থ: বাটা মানে বিভক্ত। জমির নকশা তৈরির সময় কোনো দাগ বিভক্ত করে বা আলাদা করে নতুন দাগ নম্বর সৃষ্টি করার সময় বিশেষভাবে দাগ তৈরি করা হয়, একেই বলে বাটা দাগ।

২৭. ছড়া বা ছড়ি
অর্থ: পাহাড় বা টিলা থেকে যে জমি সমতলের দিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে বলে ছড়া বা ছড়ি।

২৮. নয়নজুলি
অর্থ: কোনো রাস্তা তৈরির সময় দুই দিক থেকে মাটি তোলার ফলে একধরনের নালা তৈরি হয়। সেই নালাকেই বলে নয়নজুলি।

২৯. হালট
অর্থ: জমির পাশ দিয়ে চাষের সুবিধার্থে বলদ কিংবা কৃষকদের চলাচলের জন্য যে পথ রাখা হয়, তাকে বলে হালট।

৩০. সিকস্তি
অর্থ: নদী বা সাগরের জোয়ারে যখন কোনো জমি ভেঙে যায়, তাকে বলে সিকস্তি।

৩১. পয়স্তি
নদী বা সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়া কোনো জমি যখন পুনরায় চরের মতো জেগে ওঠে, তাকে বলে পয়স্তি।

৩২. বিলা
অর্থ: জলাবদ্ধ এলাকা, মৌসুমি জলাভূমি।

৩৩. ডাঙ্গা
অর্থ: চাষের উপযোগী উঁচু জমি।

৩৪. গোপাট
অর্থ: পতিত জমি, যেখানে গবাদিপশু ঘাস খাওয়ার জন্য চষে বেড়ায়।

৩৫. কোলা জমি
অর্থ: বসতবাড়ির সঙ্গে অবস্থিত কোনো নাল বা চাষাবাদের জমিকে বলে কোলা জমি।

৩৬. চিরাগী
অর্থ: মসজিদ বা কবরস্থানে আলো জ্বালানোর জন্য যে খরচ হয়, তা মেটানোর জন্য কোনো দানকৃত ভূমি।

৩৭. পালাম ভূমি
অর্থ: বসতবাড়ির পাশেই অবস্থিত সবজি চাষের জন্য উঁচু জমি।

৩৮. লায়েক জমি
অর্থ: চাষের উপযুক্ত জমি।

৩৯. কস্য
অর্থ: কস্য মানে হলো কার নামে দলিল। মালিকের নামে দলিল হলে কস্য শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

৪০. মৌরশী
অর্থ: পৈত্রিক সম্পত্তি।
৬২. গির্ব
অর্থ: বন্ধক। কোনো জমি বন্ধক নিলে বা বন্ধকি জমি বোঝাতে বলা হয় গির্ব।

৬৩. টেক
অর্থ: নদীর পলি জমে সৃষ্ট ভূমি।

৬৪. দরবস্ত
অর্থ: সবকিছু।

৬৫. দিঘলি
অর্থ: নির্দিষ্ট খাজনা প্রদানকারী।

৬৬. নক্সা ভাওড়ন বা নকশা ভাওড়ন
অর্থ: আগের জরিপের কোনো মানচিত্রকে বলা হয় নক্সা ভাওড়ন বা নকশা ভাওড়ন।

সংগ্রহীত


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা