• মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে ইরানের ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র’ হামলা

Reporter Name / ৩৬ Time View
Update : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম সংঘাত ও তীব্র সামরিক উত্তেজনার মাঝে এবার উত্তর ইসরায়েলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত ‘রামাত ডেভিড’ বিমানঘাঁটিতে সরাসরি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী হাইফা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরান রোববার (৭ জুন) রাতে এই বিধ্বংসী হামলা চালায়।

আইআরজিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিশেষ বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে দখলদার ইসরায়েলি বিমান বাহিনী যে বর্বর ও উপর্যুপরি বিমান হামলা পরিচালনা করেছিল, তার ‘মূল কেন্দ্র’ বা সামরিক লজিস্টিক হাব ছিল এই রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি। মূলত সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধ থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিকে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

আইআরজিসি তাদের বিশেষ বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের এই পর্যায়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে। তারা স্পষ্ট করে জানায়, এর আগে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতির যে কূটনৈতিক প্রস্তাব তেহরান গ্রহণ করেছিল, তার অন্যতম প্রধান শর্তই ছিল যে সেটি হবে মধ্যপ্রাচ্যের ‘সব ফ্রন্টে যৌথভাবে কার্যকর একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি’।

তবে পশ্চিমা পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র রাষ্ট্র ইসরাইল সেই লিখিত ও মৌখিক প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছে ইরান। আইআরজিসির দাবি, লেবাননে নতুন করে বেসামরিক মানুষের ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে পরিচিত কৌশলগত হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে ইরানের মূল ভূখণ্ডের উপকূল এবং বানিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বারবার চোরাগোপ্তা আক্রমণ চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল জোট মূলত যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পুরোপুরি লঙ্ঘন করেছে।

চলমান অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেও পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের প্রধান বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের অবৈধ ও আগ্রাসী নৌ অবরোধ কঠোরভাবে বজায় রেখেছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। এই সব অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং ইসরাইলি দাম্ভিকতা চূর্ণ করতে রোববার রাতের এই বিশেষ ব্যালিস্টিক মিসাইল অভিযানটি ছিল ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য কেবল একটি প্রাথমিক ‘সতর্কবার্তা’ মাত্র বলে আইআরজিসির বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে শক্তিশালী এই ইরানি বাহিনী জানায়, ভবিষ্যতে যদি ইসরাইল বা মার্কিন সামরিক জোট এই অঞ্চলে এ ধরনের বেআইনি হামলার ন্যূনতম পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরানের পরবর্তী সামরিক জবাব হবে আরও বেশি ব্যাপক, বিধ্বংসী ও অল-আউট যুদ্ধমুখী। তবে এই আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষয়ক্ষতি বা সত্যতার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা মার্কিন পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা