দেশে এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে হঠাৎ সংকট তৈরি হয়েছে। এর সুযোগে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারে কোথাও কোথাও ৬০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত দামের তুলনায় এলপিজির খুচরা মূল্য প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে এলপিজির ঘাটতি নেই। তবে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ কেন উঠছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তা ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও আবার বড় সিলিন্ডারও নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েক শ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বিভিন্ন কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের জন্য প্ল্যান্টে ট্রাক নিয়ে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর দাবি, তারা নির্ধারিত দামেই গ্যাস সরবরাহ করছে। সংকটের সুযোগ নিয়ে ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিলিন্ডার মজুত করে বাড়তি দামে বিক্রি করছে।
ডিলারদের কেউ কেউ আবার অভিযোগ করছেন, আগামী মাসে এলপিজির দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় কয়েকটি কোম্পানি সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর প্রভাব পড়েছে খুচরা পর্যায়ে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইপলাইনের গ্যাসের সংকটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সিলিন্ডারজাত এলপিজির চাহিদা বেড়েছে। আগস্টে অনেক এলাকায় এলপিজির বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে বাড়তি চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের সমন্বয় না হওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে।
এলপিজি আমদানিকারকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও জাহাজভাড়া বেড়েছে। অনেক আমদানিকারক সময়মতো কাঁচামাল আনতে পারছেন না। তবে কোম্পানিগুলো নির্ধারিত দামেই বাজারে সরবরাহ করছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে কমিশনের হিসাবে, সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির তথ্য নেই। আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার টন। মাসের বাকি সময়ে আরও এলপিজি আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। প্রয়োজনে এলপিজি অপারেটরদের ডেকে সরবরাহ ও দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হবে।