• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ অপরাহ্ন

ডেঙ্গু পরিস্থিতি-সেপ্টেম্বরে ফেনীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ

Reporter Name / ৩ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফেনীতে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু শনাক্তের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪ জন ছাড়িয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি শনাক্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। এই মাসের সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে ৪৬৮ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিনগুনের বেশি বেড়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৭১৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নমুনা পরীক্ষা করে আরও ১৫ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১১ জন এবং সোনাগাজীতে ৪ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত করা হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আগস্টে জেলায় ডেঙ্গু রোগী ছিল ১৪৫ জন। জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ফেনী সদর উপজেলায়। বছরের ৯ মাসে মোট শনাক্তকৃত ৭১৪ জন শনাক্তের মধ্যে ৫২৫ জন সদর উপজেলার। এছাড়া দাগনভূঞায় ৫২, সোনাগাজীতে ৫৯, ছাগলনাইয়ায় ৩৬, পরশুরামে ২৬ এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন মোট ৫০৪ জন রোগী। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬৯ জন। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন, ছাগলনাইয়ায় ৩ জন, সোনাগাজীতে ১ জন, দাগনভূঞায় ৩ জন এবং পরশুরামে ৩ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন শুধু শহরাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর বিস্তার দেখা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও রোগ প্রতিরোধে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি ও মশক নিধন কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ কিংবা নিয়মিত মশক নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ফেনী পৌরসভার স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা ডা. কৃষ্ণপদ সাহা বলেন, ডেঙ্গু রোধে এডিস মশার বংশবিস্তার ধ্বংসে পৌর এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলছে।

এ প্রসঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ড. মো. রোকন উদ দ্দৌলা জানান, এমনিতেই হাসপাতালে রোগীর ব্যাপক ভিড়, তার ওপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়েই আমাদের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসময় সবাইকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ড. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তবে সচেতনতা অবলম্বন করলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বর্তমানে জেলায় ৭ হাজার ২০৮টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী সদরে ৫ হাজার ২৬টি, পরশুরামে ৩৭০টি, সোনাগাজীতে ৭৭৯টি, ফুলগাজীতে ২৪৮টি, দাগনভূঞায় ৫৯টি এবং ছাগলনাইয়ায় ৭৭৯টি কিট মজুদ রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা