• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন

সীমান্তের টানে ঘুরে আসুন ফেনীর বিলোনিয়া

Reporter Name / ৮ Time View
Update : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬
ফেনীর বিলোনিয়া স্থলবন্দর

বাংলাদেশের একেবারে সীমান্তঘেঁষা কিছু জায়গার সৌন্দর্য অন্যরকম। সেখানে প্রকৃতির দৃশ্যের পাশাপাশি দেখা মেলে দুই দেশের সীমান্তজীবন, মানুষের চলাচল ও বাণিজ্যিক ব্যস্ততা। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া তেমনই একটি সীমান্ত এলাকা। ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় জায়গাটি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্তে অবস্থিত বিলোনিয়া স্থলবন্দরের ঠিক বিপরীতেই রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের বিলোনিয়া এলাকা ও মুহুরীঘাট। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে পরশুরাম উপজেলা সদর প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে, আর উপজেলা সদর থেকে স্থলবন্দরটির দূরত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। সড়কপথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এখানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিলোনিয়া স্থলবন্দর মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০০৯ সালে বিলোনিয়া শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে এখান দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তবে ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বিলোনিয়ার আকর্ষণ শুধু বন্দরকে ঘিরে নয়। সীমান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমান্তজীবনের আবহ অনুভব করাও ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে বিকালের দিকে সীমান্ত এলাকার পরিবেশ ও আশপাশের দৃশ্য ভ্রমণকারীদের ভালো লাগতে পারে।

ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনী হয়ে পরশুরাম উপজেলা সদরে যেতে হবে। এরপর পরশুরাম থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার পথ পেরোলেই বিলোনিয়া স্থলবন্দর এলাকায় পৌঁছানো যায়।

ফেনী শহর থেকেও পরশুরামের দিকে গিয়ে সহজেই বিলোনিয়া সীমান্ত এলাকায় যাওয়া যায়। তবে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় ভ্রমণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি।

বিলোনিয়া স্থলবন্দরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নথিতে বন্দরের উন্নয়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দরটির কার্যক্রমে ওঠানামাও দেখা গেছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বিলোনিয়া দিয়ে রফতানি চললেও আমদানিতে ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ এবং যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ার কথা উঠে আসে।

তারপরও সীমান্তের স্বতন্ত্র পরিবেশ, দুই দেশের কাছাকাছি অবস্থান এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বের কারণে ফেনী ভ্রমণে বিলোনিয়াকে যোগ করতে পারেন। যারা প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে গিয়ে সীমান্ত এলাকার জীবন ও পরিবেশ দেখতে চান, তাদের জন্য জায়গাটি হতে পারে নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা