• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
Headline
ফেনীতে হারানো ৫০ মোবাইল ফোন উদ্ধার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ২১ জানুয়ারি আত্মগোপনেই মারা গেলেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনীতে অধিকার’র ৩২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মতবিনিময় সভা ৪৭ বছর পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’ পরশুরামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৯ দোকান পুডে ছাই-ক্ষতি প্রায় ২ কোটি টাকা আশুলিয়ার ঝুট গোডাউনে আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে বাসাবাড়িতে ৭০০ রিকশার মালিকানা নিয়ে জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করবে বিএনপি; ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুত রাখবে বিকল্প প্রার্থী ডিমের উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নেই খামারির-বিশ্ব ডিম দিবস আজ

ঘুরে আসতে পারেন দেশের একমাত্র চা জাদুঘর

ফিচার ডেস্ক / ৩১০ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

দুধসহ কিংবা ছাড়া, চিনি মিশিয়ে অথবা না মিশিয়ে প্রতিদিন কয়েক কোটি কাপ চা পান করা হয় পুরো দেশে। এতে জিবে স্বাদ ধরা পড়ে মন প্রশান্ত হয় বটে, কিন্তু এর ইতিহাস থাকে অজানা। আমাদের এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক চা-বাগানের ইতিহাস প্রায় পৌনে দুই শ বছর। সেই ইতিহাস জানার ব্যবস্থা রয়েছে আমাদের দেশেই। সে জন্য যেতে হবে শ্রীমঙ্গলের চা জাদুঘরে। এটিই এখন পর্যন্ত দেশের একমাত্র চা জাদুঘর।

১৮৩৫ সালে চীনের সীমানার বাইরে প্রথম চা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৮৫৪ সালে পরীক্ষামূলকভাবে সিলেটের মালনীছড়া চা-বাগানের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় ১৭০ বছর আগে ব্রিটিশরা কীভাবে এই শিল্পকে গড়ে তুলেছিল, এর ঐতিহাসিক স্মারক সাজানো আছে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলের টি মিউজিয়াম বা চা জাদুঘরে।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ চা বোর্ডের উদ্যোগে যাত্রা শুরু করে এই চা জাদুঘর। এটি শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কে অবস্থিত টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়ামের ভেতরে। এখানে দেশের চা-শিল্পের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সেই সময়ের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে।

টি রিসোর্ট অ্যান্ড মিউজিয়ামের চারটি কক্ষে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে চা-শিল্পের ঐতিহাসিক এই নিদর্শনগুলো। ছোট ছোট নিদর্শন চা-গাছের গুঁড়ি এবং কাচের ফ্রেম দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই জাদুঘরে রয়েছে ব্রিটিশ আমলের প্ল্যান্টিং হোম, চা-শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার কয়েন বা মুদ্রা, বেতন বুক, শ্রমিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, যোগাযোগ করার টেলিফোন, কলের গান, রেডিও। চা জাদুঘরে আরও আছে ব্রিটিশ আমলের সিরামিক জার, চেয়ার, টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, জরিপ শিকল, রয়েছে মাটি পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত প্রাচীন পিএইচ মিটারসহ অনেক নিদর্শন। এসব নিদর্শন দেখা শেষ করে এখানে দেখা যাবে মিনি চা কারখানা। এখন বিশাল কারখানায় চা প্রক্রিয়াজাত করা হলেও সেই সময় যেসব ছোট মেশিনে চা প্রক্রিয়াজাত করা হতো, সেগুলো দেখা যাবে এই কারখানায়। এসব মেশিন দেখে ব্রিটিশ আমলে চা কারখানায় কীভাবে চা প্রক্রিয়াজাত করা হতো, তার একটা ধারণা পাওয়া যায়। কারখানার ভেতর সেই সময়ের তৈরি একটি প্রচার পোস্টার দেখা যায়। সেই পোস্টারে লেখা রয়েছে, চা পান করলে কী কী উপকার পাওয়া যায়। পোস্টারের মাধ্যমে চা পান করার জন্য সেই সময় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

সারা দেশের বিভিন্ন চা-বাগান থেকে ব্রিটিশ আমলের ব্যবহৃত এই জিনিসপত্র সংরক্ষণ করা হয়েছে এই জাদুঘরে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ড জাদুঘরটি চালু করলে দেশের বিভিন্ন চা-বাগান থেকে নিদর্শনগুলো একত্র করা হয় এই চা জাদুঘরে।

২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর ২০০৯ সালে চা জাদুঘর চালু করা হয়। তবে এই জাদুঘরে আরও অনেক কিছু যুক্ত করার প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় অধিবাসী এবং পর্যটকেরা। ব্রিটিশ আমলের জিনিসপত্রের পাশাপাশি আধুনিক চা-শিল্পের যন্ত্রপাতি যুক্ত করলে পর্যটকেরা চা জাদুঘর দেখার জন্য আরও আকৃষ্ট হবেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। এখান থেকে কিছু কিছু জিনিস সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ আছে। এতে পর্যটকেরা অনেক কিছু দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চা জাদুঘরের দায়িত্বে থাকা সহকারী কিউরেটর মো. ফয়জুর রহমান বলেন, ‘এখানে চা জাদুঘর দেখতে অনেক পর্যটক আসেন। বিশেষ করে ছুটির সময় বেশি আসেন। চা জাদুঘর দেখে অনেকে বিস্মিত হন। কীভাবে ১৭০ বছর ধরে টিকে আছে চা-শিল্প, তা এই জাদুঘর দেখলে সহজে বুঝতে পারা যায়।’

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং চা জাদুঘরের ব্যবস্থাপক রায়হান মুজিব হিমেল জানিয়েছেন, বিভিন্ন চা-বাগান থেকে এগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে জাদুঘরটি বড় করার চিন্তা রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

যেভাবে যাবেন

এই চা জাদুঘর ঘুরে দেখার জন্য দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেতে হবে শ্রীমঙ্গলে। সেখান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ রোডে অবস্থিত এই জাদুঘরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সহজে যাওয়া যায়। রিকশা এবং অটোরিকশার ভাড়া ২০ থেকে ৫০ টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা