ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভুঞা ইউপির উত্তর আলীপুর রাহমানিয়া দারুল কুরআন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, খেলাধুলায় বাধা এবং টিউবওয়েল থেকে পানি পানে বাঁধাদানের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার(১০ সেপ্টেম্বর) সকালে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকার সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উত্তর আলীপুর রাহমানিয়া দারুল কুরআন মাদ্রাসা একটি দাতব্য ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে অত্র এলাকার শিশুরা অত্যন্ত আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশে পড়ালেখা করে আসছে। তবে ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, স্থানীয় কিছু লোক শিশুদের স্বাভাবিক চলাফেরা ও খেলাধুলায় অযাচিত বাধা দিচ্ছে। এমনকি তাদের নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে, যা শিশুদের মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি গতবুধবার (৯ মার্চ) বেলা আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসা সংলগ্ন ফয়েজ ভুঁঞা জামে মসজিদের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতে গেলে স্থানীয় ফয়েজ ভুঞা বাড়ির বাচ্চু মিয়া নামের এক ব্যক্তি এক শিক্ষার্থীকে পানিতে ভিজিয়ে দেন এবং অন্য শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। উক্ত বিষয়ের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল আফছার এ বিষয়ে জানতে চাইলে উক্ত ব্যক্তি মাদ্রাসার মুহতামিমের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জানিয়েছেন মুহতামিম মাওলানা নুরুল আফছার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা নুরুল আফছার জানান, আমি ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে উনি আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মসজিদের টিউবওয়েল ব্যবহার ও মসজিদ প্রাঙ্গনে আসতে করতে পারবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদ আলী ভুঞা জানান,মসজিদে টিউবওয়েল থেকে শিক্ষার্থীদের পানি পানে বাধা দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে এমন কঠোর ও অনভিপ্রেত আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে শিশুদের মনে মসজিদ ও মাদ্রাসা শিক্ষার পরিবেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। অতীতে উক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরাও এই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন। তিনি কেমন এমন আচরন করলেন তা বুঝতে পারছি না। উক্ত মসজিদ প্রাঙ্গন ও টিউবওয়েল ওয়াকফের জায়গায় রয়েছে। তাতে আমাদের পরিবারের ব্যক্তিগত জায়গা রয়েছে। শিশুদের শেখাতে হবে ভালোবাসা ও বুঝিয়ে, মারধর কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে নয়। আমরা এ ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সত্যি উদ্বেগ উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছি।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে কোমলমতি শিশুদের সাথে এমন আচরনেন নিন্দা জানান। এ ছাড়া শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও ভালোবাসাপূর্ণ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।