বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যেই র্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশের অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
নতুন আইনে র্যাবের জনবল, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সম্পদ, তহবিল, চুক্তি, রেকর্ডপত্রসহ বিভিন্ন বিষয় এসআরবির কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। এসআরবিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও জব্দের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, এসআরবি পুলিশের আওতাধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। এর মহাপরিচালক হবেন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা। ইউনিটের নিজস্ব পতাকা, প্রতীক ও পোশাক থাকবে।
বিলের বিরোধিতা করে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, র্যাব বিলুপ্তির দাবি থাকলেও এর পরিবর্তে একই ধরনের আরেকটি বাহিনী গঠনের দাবি কেউ করেনি। তাঁর অভিযোগ, র্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদ একইভাবে রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এটিকে ‘সাইনবোর্ড বদল’ এবং ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ বলে সমালোচনা করেন। তাঁদের আশঙ্কা, র্যাবের জনবল ও কাঠামো এসআরবিতে স্থানান্তর হলে বাহিনীটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডেরও ধারাবাহিকতা থেকে যেতে পারে।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী র্যাব বিলুপ্ত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এসআরবির সঙ্গে র্যাবের কোনো সংস্পর্শ থাকবে না। র্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ নতুন বাহিনীতে দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি এসব সম্পদ সংরক্ষণের কথা উল্লেখ করেন।
এদিন র্যাব বিলুপ্তির পাশাপাশি ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল–২০২৬’-ও সংসদে পাস হয়েছে। নতুন আইনে এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের পাশাপাশি তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।