সাধারণত রাইনোভাইরাস এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে সর্দি ও কাশি হয়। এই অবস্থাকে সাধারণত ফ্লু বলা হয়। এটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, ভাইরাসযুক্ত জিনিসপত্র স্পর্শ করার পর চোখ, নাক বা মুখে হাত দিলে সংক্রমিত হয়, অথবা প্রত্যক্ষ সংস্পর্শের মাধ্যমে যেমন হাত মেলালে ছড়াতে পারে। ঠান্ডা বা ধুলোবালুযুক্ত পরিবেশে বেশি সময় কাটালে এবং শীতকাল বা বর্ষাকালে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
সর্দি-কাশির সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিশেষ করে সকালে হাঁচি দেওয়া, গলাব্যথা বা গলা শুকিয়ে যাওয়া, শুকনো বা কফযুক্ত কাশি, শরীর ব্যথা বা মাথাব্যথা, মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার জ্বর, চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা পানি পড়া, এবং ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা। এছাড়াও ভাইরাসের সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও হতে পারে।
সাধারণ ঠান্ডা ও কাশি ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। তবে আরাম পেতে কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা করা যেতে পারে। গরম পানি ও লবণ দিয়ে গর্গল করলে গলায় ব্যথা ও জীবাণু সংক্রমণ কমে। মধু ও আদার রস কাশির আরামদায়ক প্রতিকারক হিসেবে কাজ করে। তুলসী ও আদা চা সর্দি-কাশির জন্য কার্যকর। গরম পানির ভাপ নাক বন্ধ প্রশমনে সহায়ক। তুলসীপাতা ও কালোজিরা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
ওষুধের সাহায্যে জ্বর ও ব্যথা কমানোর জন্য প্যারাসিটামল, নাক বন্ধ ও সর্দি কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন, শুকনা ও কফযুক্ত কাশির ধরন অনুযায়ী কাশির সিরাপ, এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি ও জিংক নেওয়া যেতে। ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে।
চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো লক্ষ্য রাখা জরুরি: জ্বর ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে এবং তিন দিনের বেশি থাকলে, শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা অনুভব করলে, ঘন হলুদ বা সবুজ কফ বের হলে, প্রচণ্ড দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি, এবং দীর্ঘস্থায়ী কাশি থাকলে।
প্রতিরোধের জন্য হাত পরিষ্কার রাখুন, সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। অপরিষ্কার হাতে খাবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকুন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুষ্টিকর খাবার খান। হাঁচি-কাশির সময় রুমাল বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
অধ্যাপক ডা. এম আলমগীর চৌধুরী, ইএনটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ, ধানমন্ডি, ঢাকা