• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
Headline
ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে নেয়া হয়েছে ডিবি কার্যালয়ে বড়দিন উদযাপনে ২ কোটি টাকা চেয়েছিল ট্রাস্ট, প্রধানমন্ত্রী দিলেন ৩ কোটি ফেনীর বাজারের হালচাল দামে নাভিশ্বাস, কমেছে বেচাবিক্রি শর্শদি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাজী ফারুককে চায় এলাকাবাসী একই দিনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ছাত্রলীগের জটিকা মিছিল, গ্রেফতারে খুঁজছে পুলিশ টানা চার দফায় স্বর্ণের দামে পতন, যে দামে মিলছে এক ভরি দাগনভূঞায় বটি দিয়ে কুপিয়ে মাকে খুন, মেয়ে আটক আওয়ামী লীগকে ফেরাতে যা করা দরকার, তাই করছে বিএনপি : নাহিদ দৈনিক জনপদ বার্তার ডিক্লারেশন পেলেন জসিম ফরায়েজী ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন আজ

ফেনীর বাজারের হালচাল দামে নাভিশ্বাস, কমেছে বেচাবিক্রি

Reporter Name / ৯ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে অনেকটা হিসাব কষতে হয়। এক কেজি কিনতে গিয়ে আধা কেজি, আবার কোনো কোনো পণ্য তালিকা থেকেই বাদ দিতে হচ্ছে। মাছ-মাংসের বাজারে গিয়ে সাধ থাকলেও সাধ্যের সঙ্গে মিলছে না। সংসারের মাসিক আয় খুব একটা না বাড়লেও চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ফেনীর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সাধারণ মানুষ বলছেন, বাজার খরচ মেটাতে আয়ের পাশাপাশি ধার-দেনা করতে হচ্ছে। কাটছাঁট করেও তবু জীবনযাপনের ব্যয় মেটানো যাচ্ছে না।

অন্যদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ থাকলেও ক্রেতারা আগের মতো কেনাকাটা করছেন না। এতে খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রিও কমেছে। বড় বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের দৈনিক বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেউ কেউ আগের অর্ধেক বিক্রিও করতে পারছেন না। দোকানভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ পরিচালন ব্যয় মেটাতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ফেনীর বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাল, মাছ, মুরগি, ডাল, তেল, আদা, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। কোনো কোনো পণ্যের দাম সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ কমেনি। বিশেষ করে গত তিন মাসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি দাম ৭০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক মাসে তেলাপিয়া মাছের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়েছে। ছোলার দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে।

শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মারুফ হোসেন বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বেতন বেড়েছে। কিন্তু চাল, কাঁচা তরকারি, মাছ, মাংস ও ডিমের দামের যে পরিবর্তন হয়েছে, তাতে কোনোভাবেই আর কুলিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। যে বেতন আমরা পাই সে তুলনায় বর্তমান বাজারদর অনেক বেশি।

গৃহবধূ জাকিয়া বেগম বলেন, জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় উপকরণের পাশাপাশি শিশুখাদ্য ও চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়েছে। আগে যেখানে চিকিৎসকের ফি ছিল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা, এখন তা ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা হয়েছে। বাধ্য হয়ে সংসারে মাছ-মাংস কেনা কমিয়ে দিয়েছি। ছেলে মেয়েদের চাহিদা অনুপাতে অনেক কিছু নিতে হয় তবে আমাদের আয় সে অর্থে বাড়েনি। যার কারণে জীবন যাপনের ব্যয় অনেকটাই সংকোচন করে চালিয়ে যাচ্ছি।

ফেনীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিজের ও স্বামীর যৌথ আয়েও বর্তমান বাজারে পরিবারের শিক্ষা, যাতায়াত ও ভোগ্যপণ্যের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। বাধ্য হয়েই অনেক কিছু কেনা বন্ধ করেছি। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেটাতে কষ্ট করতে হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নার্গিস আক্তার বলেন, বাজারে গেলে বুঝি, টাকা কত দ্রুত শেষ হয়। বাসা থেকে হিসাব করে আসি, কিন্তু বাজারে এসে দেখি, সেই টাকায় সবকিছু কেনা যাচ্ছে না। কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই অনেক টাকা চলে যায়। তখন বাধ্য হয়ে কিছু পণ্য না কিনেই ফিরে যেতে হয়।

তিনি বলেন, সংসারের খরচ তো কমানো যায় না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে অন্য খরচ কমিয়ে চলতে হয়। কিন্তু সবকিছুর দাম বেশি থাকলে হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে বাজারের এমন পরিস্থিতে সব থেকে বেশি কষ্টে রয়েছে দিনমজুর ও শ্রমিক শ্রেণির মানুষরা। শহরের বড় বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন দিনমজুর রহিম মিয়া। শহরের একটি ভাড়া বাসায় দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে থাকেন তিনি। দৈনিক যা আয় করেন তার সম্পূর্ণটা খরচ করলেও বাজার হয়না বলে জানান তিনি।

রহিম মিয়া বলেন, প্রতিদিন কষ্ট করে যা আয় করি সেটাই বাজার করতে চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে হয়ত খেয়ে বেঁচে থাকব তবে সন্তানদের পড়ালেখা ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে চলতে পারব না।

ফেনী বড় বাজারের ব্যবসায়ী লিটন সাহা বলেন, বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে খুচরা ব্যবসায়ীদের খুব বেশি কিছু করার থাকে না। দাম বাড়াতে আমরা আরও বেকাদায় থাকি, বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে বেচাবিক্রি অনেক কমে গেছে।। আমাদের পাইকারি পর্যায় থেকেই বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হয়। বিক্রি কমে যাওয়ায় দোকানভাড়া ও কর্মচারীদের খরচ মেটানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।আমরাও চাই এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসুক, এতে আমাদেরও বেচাবিক্রি বাড়তে পারে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়িমিত বাজার মনিটরিং করছি।।কেউ মজুদ করছে কিনা এসব বিষয়ে আমাদের তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়ে এটা ঠিক তবে আমরা চেষ্টা করি কেউ যেন মজুদ করে না রাখে। বর্তমানে সবজির দাম নিম্নমুখী, যেহেতু শীতকালীন সবজিগুলো বাজারে আসছে। ফেনীতে কেউ মজুদ করে রাখে এমন তথ্য পাইনি তবে যেসব অভিযোগ আসে আমরা সামাধান করে ফেলি।

চালের বাজারে বাড়তি চাপ

বড় বাজারের চাল ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি ৭০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। সাগর মিনিকেটের বস্তা এখন ২ হাজার ৪৫০ টাকা, তিন মাস আগে ছিল ২ হাজার ৩৮০ টাকা। নুরজাহান মিনিকেট ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা, রূপচাদা মিনিকেট ২ হাজার ৩৬০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৩০ টাকা এবং সাজু মিনিকেট ২ হাজার ৪২০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫৫০ টাকা হয়েছে।

একই সময়ে ১ নাম্বার আটাশ চাউল রজনীগন্ধা মিনিকেটের বস্তা ৩ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, ডায়মন্ড মিনিকেট ৩ হাজার ৩৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং সোনারমুকুট মিনিকেট ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৪০০ টাকা হয়েছে। অভিজাত মিনিকেটের বস্তাপ্রতি দাম ৩ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে চিনিগুঁড়া চালের দামেও ওঠানামা রয়েছে। তিন মাস আগে কেজিপ্রতি ২১০ টাকা থাকলেও পরে তা ১৬৫ টাকায় নেমেছিল। বর্তমানে আবার বেড়ে ১৮৫ টাকা হয়েছে।

বড় বাজারের রমণী সাহা স্টোরের স্বত্বাধিকারী লিটন সাহা বলেন, সব পণ্যের দাম একইভাবে বাড়েনি। কোনো কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ২৮ মিনিকেট চালের বস্তাপ্রতি দাম প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে। চিনিগুঁড়া চাল মানভেদে ১৩০, ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বেচাকেনা অনেক কমেছে। মানুষের চাহিদা আছে, কিন্তু টাকা নেই। আগে যেখানে দৈনিক ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা বিক্রি হতো, এখন তা ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায় নেমেছে। আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। গত এক মাসে আদার দাম প্রায় ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং রসুনের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ছোলা, বুট ও মটর ডালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ছোলা কেজিপ্রতি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা, যেখানে আগে ছিল ৮০ টাকা। মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ টাকা কেজি।

চাল ব্যবসায়ী সাহ ট্রেডার্সের মোহন সাহা বলেন, মিনিকেট চালের ধান আমদানি কম। আটাশ ও ঊনত্রিশ জাতের চালের সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে পারে। নতুন ধান বাজারে এলে চালের দাম কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

চালের এই পাইকারী ব্যবসায়ী আরও বলেন, আগে দৈনিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার চাল বিক্রি করতাম, এখন তা প্রায় ২ লাখ টাকায় নেমেছে। আগে প্রতিদিন ৫০ বস্তা চাল বিক্রি হলেও এখন সারাদিনে ২০ বস্তাও বিক্রি হচ্ছে না। চিনিগুঁড়া চাল আগে ১৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হত। দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে এর দাম বেড়েছে বলে তাঁর ধারণা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনীর সহকারী পরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, চাল ও আটার দাম বাড়ার বিষয়টি নজরে এসেছে। উত্তরবঙ্গে যেখান থেকে চাল আসে সেখানে দাম কিছুটা বাড়তি। আমরা ভাউচারগুলো যাচাই করে দেখেছি কেন বেড়েছে। চালের বাজারে কারসাজি করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অস্থিতিশীল মাছ-মুরগির বাজার

মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। বড় বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হাশেম আলী জানান, এক মাস আগে যে তেলাপিয়া মাছ কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা বিক্রি করেছেন, বর্তমানে তা ২২০ টাকা। কোনো কোনো সময় ২৬০ টাকাও বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে পাঙাশ ১৬০ টাকা, রুই ৩০০ টাকা এবং কার্প মাছ ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

হাশেম আলী বলেন, মাছের দাম মূলত বাজারে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে। আবার বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যায়। এভাবেই মাছের বাজারে দামের ওঠানামা চলে।

মুরগির বাজারে সাদা ব্রয়লার কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা, লেয়ার ৩২০ টাকা, দেশি কক ৩২০ টাকা এবং হাইব্রিড কক ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন বলেন, গত ১৫ দিনে সাদা ব্রয়লার মুরগির দাম একই রকম থাকলেও লেয়ার ও কক মুরগির দাম বেড়েছে। মুরগির বাজার অনেকটা শেয়ারবাজারের মতো। হঠাৎ দাম বেড়ে যায়, আবার কমে যায়।

তিনি বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত মুরগি থাকলেও মানুষ আগের মতো কিনছে না। এক মাস আগেও দৈনিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মুরগি বিক্রি করতেন। এখন তা ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় নেমেছে। বিক্রি না হওয়ায় প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মুরগি মারা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, অনেক মুরগি আনার পর মারা যায়। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গত তিন মাসে আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। কর্মচারী ও দোকানের খরচের পাশাপাশি বিক্রি না হওয়া মুরগির লোকসান সামলাতে গিয়ে ব্যবসার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

ঊর্ধ্বমুখী মুদি পণ্যের বাজারও

বড় বাজারে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১৬০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা, আটা ৫০ টাকা, সয়াবিন তেল ২০৩ টাকা, চিনি ১১০ টাকা এবং মসুর ডাল ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে রসুনের দাম প্রায় ৩০ টাকা এবং আদার দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এলাচের দাম আগে ৪ হাজার ৬০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে ৫ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমণী সাহা স্টোরের স্বত্বাধিকারী লিটন সাহা বলেন, শুধু খোলা পণ্য নয়, প্যাকেটজাত নুডলস, বিস্কুটসহ বেকারি পণ্যের দামও বেড়েছে। কোনো কোনো পণ্যে দাম না বাড়িয়ে ওজন কমানো হচ্ছে। ক্রেতারা এসব বিষয় না বুঝেই ঠকে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার প্রভাবেও প্রবাসী পরিবারের বাজার করার সক্ষমতা কমেছে। এতে আমাদের ও বেচাবিক্রি কমেছে। সরকারের এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত।

আরেক ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত পণ্য রয়েছে তবে বেচাবিক্রি অনেক কমে গেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর ক্রমাগত উর্ধ্বগতিতে আমরা যে লাভবান হচ্ছি তা নয়, মানুষ ক্রয় না করলে আমাদের আরও লোকসান হয়। আমরা যারা পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ব্যবসা করি, আমরা দাম বাড়াই না। যারা দাম বাড়ায় তাদেরকে তদারকি করলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

সবজি দাম কমলেও বাড়েনি বিক্রি

শীতের আগাম সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। এতে ফেনীর বড় বাজারে বেশ কিছু সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ১০ থেকে ১৫ দিন আগেও যেসব সবজি কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেগুলোর দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দাম কমলেও বাজারে স্বস্তি ফিরেনি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রেতারা কেনাকাটা কম করছেন। পর্যাপ্ত বিক্রি না হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা।

ফেনীর বড় বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল সোমবারের (২ নভেম্বর) বাজারদর অনুযায়ী বেগুন ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, পাতাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এ ছাড়া কেজিপ্রতি ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ টাকা, ছড়া ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বড় বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হারুন বলেন, সবজির দামের কোনো নির্দিষ্ট স্থিরতা নেই। সকালে এক দর থাকলে বিকেলে আরেক দর হয়ে যায়। তবে শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা কমছে। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে প্রতি কেজি সবজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল। এখন দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সামনে আরও কমতে পারে।

তবে দাম কমলেও বিক্রি নেই বলে জানিয়েছেন আরেক ব্যবসায়ী আব্দুর রউফ। তিনি বলেন, সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাজারে বেচাকেনা কম। মানুষ আগের মতো কেনাকাটা করছে না। আগে যেখানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করতাম, এখন তা কমে প্রায় ১০ হাজার টাকায় নেমেছে।

আব্দুর রউফ বলেন, কর্মচারীর খরচ, দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের হাতে তেমন কিছু থাকে না। এর মধ্যে বিক্রি না হওয়ায় অনেক সবজি ফেলে দিতে হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ভালো না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা