• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন
Headline
আত্মগোপনেই মারা গেলেন গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেনীতে অধিকার’র ৩২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মতবিনিময় সভা ৪৭ বছর পর ফিরছে ‘গ্রাম সরকার’ পরশুরামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৯ দোকান পুডে ছাই-ক্ষতি প্রায় ২ কোটি টাকা আশুলিয়ার ঝুট গোডাউনে আগুন, ছড়িয়ে পড়ছে বাসাবাড়িতে ৭০০ রিকশার মালিকানা নিয়ে জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চার মানদণ্ডে প্রার্থী বাছাই করবে বিএনপি; ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুত রাখবে বিকল্প প্রার্থী ডিমের উৎপাদন বাড়লেও ন্যায্যমূল্য নেই খামারির-বিশ্ব ডিম দিবস আজ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হলেন ব্যারিস্টার গিয়াস উদ্দিন রিমন ‘জমি লিখে না দিলে কবরও হবে না’—বৃদ্ধকে কৃষক দল নেতার হুমকির অভিযোগ

ফেনীতে অধিকার’র ৩২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মতবিনিময় সভা

Reporter Name / ৫ Time View
Update : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র ৩২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফেনীতে মতবিনিময় সভা করেছে মানবাধিকার কর্মীরা। শনিবার বিকেলে ফেনী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংগঠনের ফোকাল পার্সন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীমের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার।

অধিকার ফেনী ইউনিটের সদস্য দৈনিক অজেয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এন এন জীবন।

সাংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অধিকার ডিফেন্ডার আলী হোসেন নিমন। বক্তব্য রাখেন গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী নসু, চ্যানেল ওয়ান এর ফেনী প্রতিনিধি নজির আহমেদ রতন, দৈনিক আমার দেশ এর জেলা প্রতিনিধি এস এম ইউসুফ আলী, দৈনিক কালবেলার স্টাফ রিপোর্টার আলী হায়দার মানিক, সাপ্তাহিক হকার্স পত্রিকার সম্পাদক তারেক মজুমদার, কাজিরবাগ হাজী দোস্ত মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় এর সহকারী শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, অধিকার ফেনী ইউনিটের সদস্য জাফর আহমদ ভূঁইয়া প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

“প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন মানবাধিকার লঙ্ঘন করবে”
১০ অক্টোবর অধিকার ৩২ বছর পূর্ণ করছে। ১৯৯৪ সালের এই দিনে সামরিক স্বৈরশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে অংশ নেয়া কয়েকজনের প্রচেষ্টায় মানবাধিকারকর্মীদের সংগঠন অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিকার তার ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিবেদিত জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। গত ৩২ বছর ধরে অধিকার তার পাশে দাঁড়ানো সমস্ত মানবাধিকারকর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থা, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকেইঅধিকার সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ করতে যেয়ে বিভিন্ন সরকারের আমলেঅধিকার  হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে এবং সারা দেশেঅধিকার এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে অধিকার এর ওপর হয়রানি এবং নিপীড়ন চরম আকার ধারণ করে।
 
অধিকার এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে যখন বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে বিএনপি ২০২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই এই সরকারের অনেক কর্মকাণ্ডই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়েছে। ফলে অবধারিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিএনপি সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে অস্বীকার করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারিকৃত মানবাধিকার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ গুলো সংসদে পাশ না করায় তা বাতিল হয়ে যায়।

অধিকার এর বর্তমান উদ্বেগের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন। এই আইনগুলোতে শৃঙ্খলা বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্ত করার ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই সরকারের সময়েই মিরাজ শেখ নামের এক জেলে গুমের শিকার হন যাকে আজও ফিরে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে। বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করে মতপ্রকাশ করার কারণে মতপ্রকাশকারীকে সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এছাড়া র‌্যাব এর নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামো বহাল রেখে এসআরবি গঠন করা হয়েছে, যা অতীতের মতোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেঅধিকার । অধিকার  অবিলম্বে এই গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো সংশোধনের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।

মানবাধিকার এবং সুশাসন ছাড়া একটি দেশ কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারে না। ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অধিকার এর অঙ্গীকার, বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায় বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাদের আপোষহীন লড়াই অব্যাহত থাকবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা