ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ফেনীর পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। তবে হাটে ভারতীয় গরুর দাপটের কারণে জেলার স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। খামারিদের অভিযোগ, ভারতীয় গরুর কারণে দেশীয় পশুর ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার ফেনী জেলায় পাঁচ হাজার ৪০০-এরও বেশি খামারে কোরবানির জন্য প্রায় ৯০ হাজার ৪৫২টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৮ হাজার গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকার কথা।
খামারিরা জানান, সারা বছর ধরে চড়া দামে খৈল, ভুসি ও গো-খাদ্য কিনে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তারা পশু লালন-পালন করেছেন। কিন্তু হাটে ভারতীয় গরুর সরবরাহের কারণে দেশি গরুর ক্রেতা কমছে এবং বাজার দর অস্বাভাবিকভাবে পড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিন জেলার দাগনভুঞা উপজেলার বেকের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় সাদা রঙের বড়, মাঝারি ও ছোট আকারের ব্যাপক গরুর রয়েছে। তবে গরুগুলো কীভাবে বাংলাদেশে এলো— এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন অনেক ব্যাপারী।
বেকের বাজারের গরু বিক্রেতা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বাজারে সাদা রঙের যেসব গরু দেখছেন সবই বর্ডার পার হওয়া গরু। এদের গায়ে কাঁটাতারের বিভিন্ন আছড়ের চিহ্ন রয়েছে। ভেবেছিলাম এবার ভারতীয় গরু বাজারে আসবে না, কিন্তু এখন দেখছি উল্টো চিত্র। গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হওয়াতে এবার গরু প্রস্তুত করতে আমাদের অনেক খরচ হয়েছে। ভেবেছিলাম হাটে তুলে আসল টাকাটা তুলতে পারব। কিন্তু ভারতীয় গরুর কারণে এখন আমাদের আসল টিকবে কি না তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে। এটা চলতে থাকলে আমরা খামারিরা পথে বসে যাব।
এ বিষয়ে ফেনী বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর বিল্লাল হোসেন এশিয়া পোস্টকে জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে কোনো পশু যাতে দেশের সীমানায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ফেনী সীমান্তে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছি।
উপকূলীয় ও সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় যাতে অবৈধভাবে কোনো গরু ঢুকতে না পারে এ জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন প্রান্তিক খামারিরা।