• শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন

কিস্তির টাকা জোগাড় করতে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

Reporter Name / ৩ Time View
Update : শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬

ফেনীর সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নে প্রবাসীর স্ত্রী রিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক সাইফুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেন নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পশ্চিম জের কাছাড় গ্রামের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির কক্ষ থেকে বালুর নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় রিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফেনী পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার উক্য সিং জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নাসিরাবাদে মামার বাসা থেকে সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

উক্য সিং বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল জানান, একটি ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন। জীবিকার তাগিদে পাশের একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করছিলেন তিনি।

পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর রিনা আক্তার নতুন বাড়ির নির্মাণকাজ দেখতে সেখানে যান। এ সময় তার কানে থাকা স্বর্ণের দুল দেখে লোভে পড়ে যান সাইফুল।

তিনি আরও জানান, নির্মাণাধীন ঘরের এক পাশে কাজ দেখানোর কথা বলে রিনাকে ডেকে নেন সাইফুল। সুযোগ বুঝে পেছন দিক থেকে গলা চেপে ধরে স্বর্ণের দুল খুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে ঘটনাস্থলেই রিনা আক্তারের মৃত্যু হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান সাইফুল।

হত্যার পর লাশ গুম করতে নির্মাণাধীন কক্ষের বালুর নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন সাইফুল। এরপর স্বর্ণের দুল নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলেও উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।

পিবিআই জানায়, ছিনতাই করা স্বর্ণের দুল স্থানীয় মোহাম্মদ আলী বাজারে ১৫ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। পরে চট্টগ্রামে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের পর তাকে ফেনীতে আনা হয়েছে। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের চোছনা গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম জের কাছাড় এলাকায় প্রবাসী মানিকের নির্মাণাধীন বাড়ির কক্ষ থেকে রিনা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নিহতের বড় ছেলে মোহরম হোসেন বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই অভিযুক্তকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা