ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
প্রচারণায় বিএনপির একাধিক জামায়াত ব্যস্ত একক নিয়ে
খুলনার তেরখাদায় পাশাপাশি বারাসাত, সাচিয়াদা, ছাগলাদাহ ইউনিয়ন। ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির এক ডজনের বেশি মনোনয়নপ্রত্যাশী এ তিন ইউনিয়নে প্রচারণায় রয়েছেন। চাচা-ভাতিজা, মামা-ভাগ্নেসহ এক বংশের মধ্যে একাধিক আগ্রহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এতে প্রার্থী বাছাইয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন শীর্ষ নেতারাও।
একইভাবে প্রার্থী ছড়াছড়ি ও গ্রুপিংয়ের কারণে খুলনা জেলার ৬৮টি ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে বিএনপিতে নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি রয়েছে। বিপরীতে প্রচারণায় এককপ্রার্থী থাকায় ফুরফুরে মেজাজে আছে জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি খুলনার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী দেওয়ার জন্য সমন্বয় সভা, বাছাই ও মতামত গ্রহণে কাজ করছে। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি ইসলামী আন্দোলন।
এদিকে দলীয় প্রতীকবিহীন নতুন ফরমেটের ভোটে আগ্রহ রয়েছে ভোটারদের। সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বাসন সেবা, সরকারি অনুদান ভাতা নিশ্চিত, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও গ্রামীণ স্যানিটেশন নিশ্চিত, মাদক নির্মূলসহ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ভোটের মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করছে।
ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের ভোটার মশিউর রহমান বলেন, বিগত দিনে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেলে ২-৩ ঘণ্টা পরও শোনা যায় তিনি ঘুম থেকে ওঠেননি। কোনো কাজের জন্য দিনের পর দিন ধরনা দিতে হয়। জুলাই প্রেক্ষাপটে এবার পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। বুঝেশুনে যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেবেন ভোটাররা।
জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার পরই মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। মাঠেঘাটে প্রচারণা, পোস্টার-লিফলেট ও পাড়ামহল্লায় চায়ের আড্ডা পরিণত হয়েছে গ্রামীণ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থীর যোগ্যতা, দলের অবস্থান ও আগের উন্নয়নমূলক কাজের আলোচনা-সমালোচনায় নিয়ে চাঙা থাকে ভোটের মাঠ। ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. শাহজাহান জমাদ্দার বলেন, ৫০ শতাংশ মানুষ এখনো পানির নিচে। নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসন, টেকসই রাস্তাঘাট সন্ত্রাস-মাদক নির্মূলে কাজ করব।
আটলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ হেলাল উদ্দিন পুনরায় নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সব ধরনের সেবা ডিজিটালাইজেশন করার কথা বলেন। এদিকে প্রার্থিতা বাছাইয়ে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি হবে না উল্লেখ করে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী জানান, জনপ্রিয় মানুষদের প্রার্থিতায় সমর্থন দেওয়া হবে।
মহানগরী জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা চাই ইউপি নির্বাচনে যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করুক। ইসলামী আন্দোলন খুলনা মহানগর সহসভাপতি শেখ নাসির উদ্দিন জানান, নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। এনসিপির জেলা যুব উইংয়ের আহ্বায়ক সাজিদুল ইসলাম বাপ্পী জানান, পাঁচটি উপজেলার সব ইউনিয়নে এরই মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি।