ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সচিব মাঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও নাগরিক সনদ প্রদানে অতিরিক্ত অর্থ আদায়,অনিয়ম এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,বালিগাঁও ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো.রফিকুল ইসলাম পারিবারিক রেজিস্ট্রি কার্য সম্পন্নের জন্য গত ১৪ মে ইউনিয়ন পরিষদে যান।
তিনি পূর্বে সংগ্রহ করা ওয়ারিশ সনদ অনলাইনে হালনাগাদ করার আবেদন করতে গেলে সচিব মাঈন উদ্দিন তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রফিকুল ইসলামের দাবি,সচিব তার পুরোনো ওয়ারিশ সনদ হাতে নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আগের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে কীভাবে সনদ নিয়েছেন তা নিয়ে তাকে অপমান করেন। একপর্যায়ে তিনি বালিগাঁও এলাকার মানুষদের নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ দেখানোর পরও সচিব তার বাবা-মায়ের মৃত্যু সনদ জমা দিতে বলেন। অন্যথায় নগদ ১০ হাজার টাকা দিলে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই রাতে বাসায় ওয়ারিশ সনদ পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন,ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা নিতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। যারা টাকা দিতে পারেন না, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও বারবার হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরিন কান্তা বলেন, একজন সেবাগ্রহীতা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিদিন প্রচুর মানুষ সেবা নিতে আসেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কেউ খারাপ আচরণ করে থাকলে এবং অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বালিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাঈন উদ্দিন। তিনি বলেন, তিনি নতুন আবেদন করেননি, পুরোনো একটি সনদ অনলাইনে করার কথা বলেছেন। অভিযোগে যেভাবে বলা হয়েছে, বাস্তবে তা নয়। আমি সবসময় সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।