• শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

সরকারি দরের সঙ্গে মিল নেই বাজারে, ‘পানির দরে’ চামড়া বিক্রি

Reporter Name / ৪৯ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬

সরকার কাগজে-কলমে চামড়ার দাম বাড়ালেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি মাঠের বাজারে। ফেনীর পরশুরামে কোরবানির গরুর চামড়া ৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতারা। কেউ লোকসান গুনে চামড়া বিক্রি করছেন, আবার অনেকে নামমাত্র দাম শুনে এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করে দিয়েছেম।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় পরশুরামে কোরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা করতে জড়ো হন বিভিন্ন এলাকার মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ও চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশা নিয়ে ফিরতে দেখা গেছে অনেককে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবার পরশুরামে প্রায় ৭ হাজার গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানি হয়েছে। অথচ সরকারি মূল্য নির্ধারণের পরও স্থানীয় বাজারে সেই দামের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সামান্য লাভের আশায় উপজেলার উত্তর গুথুমা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আনোয়ার উল্লাহ একটি গরুর চামড়া কিনে হাটে আসেন। তিনি জানান, ৫০০ টাকায় চামড়াটি কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে দেখেন, ২০০ টাকার বেশি দামে কেউ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চামড়াটি বিক্রি করতে পারেননি তিনি। তিনি বলেন, ভাবছিলাম কিছু লাভ হবে। এখন মনে হচ্ছে টাকাগুলোও উঠে আসবে না।

একই চিত্র দেখা গেছে বাউরপাথর গ্রামের মৌসুমী ব্যবসায়ী বেলাল হোসেনের ক্ষেত্রেও। তিনি ৬০০ টাকা দিয়ে চারটি গরুর চামড়া কিনে হাটে আনেন। পরে সাড়ে ৫০০ টাকায় সেগুলো বিক্রি করেন। এর মধ্যে বাজারের টোল বাবদই দিতে হয়েছে ৫০ টাকা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের ভালো হবে ভেবে চামড়া সংগ্রহ করি। কিন্তু প্রতিবছরই লোকসান গুনতে হয়। এভাবে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে চলতি বছর সরকার ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া খাসির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ে সেই দামের বাস্তবতা নেই বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

অন্যদিকে, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়াঅন্যদিকে, প্রতিবছর কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি নিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ন্যায্য দাম না পাওয়ার অভিযোগও পুরোনো। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এছাড়াও অনেক কোরবানিদাতা কম দাম শুনে চামড়া বিক্রির আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন। বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কহুয়া গ্রামের আবুল কালাম বলেন, ৯০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনে কোরবানি দিয়েছি। পরে চামড়ার দাম ১৫০ টাকা বলায় সেটি পাশের এতিমখানায় দান করে দিয়েছি।

পরশুরাম পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম শাফায়াত আখতার নূর বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা